স্বাস্থ্য টিপস

বাচ্চা খেতে না চাইলে যা করবেন! বাচ্চা খেতে চায় না কেন ?

১০ মাসের বাচ্চা খেতে না চাইলে করনীয়, ছোট বাচ্চাদের খাওয়ার রুচির ঔষধ, ২ বছরের বাচ্চা খেতে না চাইলে করনীয়, ৮ মাসের বাচ্চা খেতে না চাইলে করনীয়, ৭ মাসের বাচ্চা খেতে না চাইলে করনীয়, ৬ মাসের বাচ্চা খেতে না চাইলে করনীয়, ৫ মাসের বাচ্চা খেতে না চাইলে করনীয়, বাচ্চা খেতে না চাইলে দোয়া।

বাচ্চা খেতে চায় না! অনেক মায়েরই খুবই কমন একটা অভিযোগ।অনেক কারণে শিশুদের রুচি কমে যেতে পারে এবং মা-বাবার উৎকণ্ঠাও বাড়তে থাকে।আবার বহু অভিভাবক শিশুর পেছনে খাবারের থালা নিয়ে দৌড়াতে থাকেন।শিশু কেন খেতে চায় না? কী করলে আমার বাচ্চা ঠিকমতো খাবে? আমি কিভাবে বাচ্চাকে খাওয়াতে পারি?

মায়েদের অবশ্যই ধৈর্য্যশীল হতে হবে। তাদের সন্ন্তানের সামনে হাসি খুশি থাকতি হবে। কারণ একজন সন্তানের ব্যাক্তিত্ব গড়ে উঠে পরিবার থেকেই। আপনি যদি আপনার সন্তানকে জোর করে খাওয়ানোর চেষ্টা করেন তবে সেও জোর করবে না খাবার জন্য। আপনাকে অবশ্যই বাচ্চাকে খাওয়ানোর ক্ষেত্রে কৌশলী হতে হবে।

সংক্ষেপে উত্তর

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাচ্চা খেতে না চাওয়া অসুখ নয়, বয়সের স্বাভাবিক ধাপ। এক বছরের পর শিশুর বৃদ্ধির গতি কমে, তাই ক্ষুধাও কমে। একই সময়ে সে নিজের মতো করতে শিখছে, আর “না” বলা তার কাছে একটা নতুন ক্ষমতা। আপনি চাপ দিলে বা জোর করলে এই অবস্থা সাধারণত খারাপ হয়, ভালো হয় না।

কাজে আসে তিনটি জিনিস: নির্দিষ্ট সময়ে খাবার ও স্ন্যাক্স, খাওয়ার সময় চাপমুক্ত পরিবেশ, আর শিশুর ক্ষুধা পাওয়ার আগে দুধ বা বিস্কুটে পেট ভরিয়ে না ফেলা। শিশুর ওজন ঠিকমতো বাড়ছে কি না, সেটাই আসল মাপকাঠি। খাওয়া কম মনে হলেও ওজন বাড়লে সাধারণত চিন্তার কিছু নেই।

বাচ্চা খেতে না চাইলে যা করবেন

আসুন জেনে নেই কিছু কৌশল-

সন্তান যে টুকু খেতে চায় ততুটুকই খেতে দিন– সবসমই যে খেতে ইচ্ছে করবে এমনটা ভাবা উচিত নয়। নানান কারণে আপনার সন্তান খেতে না চাইতে পারে। তাই জোর না করে তাকে বোঝার চেষ্টা করুন। বাচ্চা যা খেতে পছন্দ করে এবং যেভাবে খেতে পছন্দ করে তাকে সেভাবেই খাওয়ান।

নিদ্রিষ্ট সময়ে খাওয়ানোর অভ্যাস করুন– সন্তানকে খাওয়ানোর জন্য একটি নিদ্রিষ্ট রুটিন অনুসরণ করলে আপনার সন্তানও সেই রুটিনে অভ্যস্ত হয়ে উঠবে। যখন-তখন খাবার দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।

খাবার টেবিল ও চেয়ারে খাবারের অভ্যাস করুন – খাবার টেবিলে খাওয়ানোর অভ্যাস তাদেরকে একটি নিদ্রিষ্ট স্থানে বসে খাবার জন্য উৎসাহিত করবে।

বাবা মায়েরা খাবার সময় নিজের খাবার থেকে তার মুখে খাবার ধরুন– আপনি খাবার সময় আপনার খাবার থেকে একটি ছোট টুকরা বাচ্চার মুখে ধরুন যা তাকে নতুন খাবার চিনতে সাহায্য করবে।

খেতে না চাইলে তাকে খেলতে দিন এবং খাওয়ানোর চেষ্টা করুন– খেলতে খেলতে যদি খেতে না চায় তাহলে বুঝবেন তার ক্ষিধে নেই অথবা শরীর ভালো লাগছে না অথবা তার খাবারটি পছন্দ হচ্ছে না। তাই তার একঘিয়েমি দূর করতে খেলতে খেলতে খাওয়াতে পারেন।

অতিরিক্ত খাওয়ানো থেকে বিরত থাকুন– অতিরিক্ত খাবার ফলে খারাপ লাগা তৈরী হতে পারে যা পরবর্তীতে খাবারের উপর অনীহা তৈরী করতে পারে।

নতুন নতুন এবং মজার খাবার তাদের সামনে পরিবেশন করুন– এর ফলে আপনার সন্তানা খাবারের প্রতি আগ্রহ খুঁজে পাবে।

বাচ্চাকে নিজের হাত দিয়ে খেতে সাহায্য করুন– নিজের হাত দিয়ে খাবারের অভ্যাস তাদের রুচি বৃদ্ধির পাশাপাশি নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে।

বাচ্চার পছন্দের খাবার বোঝার চেষ্টা করুন– বাচ্চার খেতে না চাইলে তাকে তার পছন্দের খাবার খেতে দিন যা তার অনীহা দূর করতে সাহায্য করবে।

কখনই ধমক দিয়ে নয় বরং হাসি মুখে বাচ্চাকে খাবার খেতে বলুন– বাচ্চার সাথে কোন অবস্থাতেই খারাপ ব্যাবহার করবেন না। তাকে হাসি মুখে খেতে দিন। আপনি রেগে থাকলে নিজের মুড ভালো করবার জন্য বাচ্চাকে কাছের কারো কাছে রেখে কিছু সময় নিজের জন্য ব্যায় করুন।

খেতে না চাইলে কিছুক্ষন পর আবার খেতে দিন– খেতে না চাইলে কিছুক্ষন পর আবার চেষ্টা করুন।

খাবার খেতে জোর করা থেকে বিরত থাকুন– খাবার খেতে জোর করলে খাবারের প্রতি বাচ্চার অনীহা ও ভীতি তৈরী হবে তাই কখনোই খাবার নিয়ে জোর করবেন না।

বাইরের খাবার খেতে অনুৎসাহী করবেন না- বাইরের খাবার যে খেতে দেবেন না তা নয়। যখন আপনার সন্তান পরিবারের সবার সঙ্গে কোথাও ঘুরতে যাবে তখন তাকে আপনাদের সাথে বাহিরের খাবার খেতে দিন।

খাবারের মধ্যে বিরতি রাখুন– বাচ্চাদের খাবারের মাঝে বিরতি রাখুন আর বিরতির এই সময়ে যদি অন্য কোনো খাবার না খায় তবে তার ক্ষুধা লাগবে।

বাচ্চা একদমই কিছু খেতে না চাইলে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন– আপনি সব কিছু চেষ্টা করেও যদি বাচ্চাকে না খাওয়া তে পারেন তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন।

বাচ্চা খেতে চায় না কেন

১. বৃদ্ধির গতি কমে যায়

জন্মের প্রথম বছরে শিশু অনেক দ্রুত বাড়ে, তাই খিদেও বেশি থাকে। এক বছরের পর থেকে ওজন ও উচ্চতা বাড়ার গতি ধীর হয়। তার পেটের খাবারের চাহিদাও কমে। অনেক বাবা-মা এই পরিবর্তনকে “খাওয়া কমে গেছে, কিছু একটা হয়েছে” মনে করেন। আসলে শরীরের চাহিদা কমেছে।

২. নতুন খাবারে ভয়

এক-দুই বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে অচেনা খাবার ফিরিয়ে দেওয়া খুব সাধারণ। একে বলা হয় ফুড নিওফোবিয়া। এটা একটা প্রাকৃতিক সতর্কতা। একটি খাবার গ্রহণ করতে তার অনেকবার সুযোগ লাগতে পারে, কখনো দশ বা তার বেশিবার। প্রথমবার ফিরিয়ে দিলে সেটা “ও এটা পছন্দ করে না” মানে নয়।

৩. নিজে নিজে করতে চাওয়া

দুই-তিন বছর বয়সে শিশু নিজের ইচ্ছা দেখাতে শুরু করে। তার হাতে চামচ চাই, কিংবা সে কোনো কিছুই খেতে চায় না, শুধু আপনাকে দেখতে চায় আপনি কী করেন। এটা বিদ্রোহ নয়, বিকাশের অংশ।

৪. খাওয়ার আগে পেট ভরা

এটা বাংলাদেশের ঘরে খুব দেখা যায়। ভাত খাওয়ানোর আগে দুধ, বিস্কুট, চিপস, জুস বা মিষ্টি দেওয়া হলে শিশুর পেটে ভাতের জায়গা থাকে না। সারাদিন অল্প অল্প করে খাওয়ালে ক্ষুধার অনুভূতিই তৈরি হয় না। এক বছরের কম বয়সী শিশুকে গরুর দুধ না দিয়ে মায়ের দুধ বা ডাক্তারের বলা ফর্মুলা দেওয়ার কথা আন্তর্জাতিক নির্দেশিকায় বলা আছে।

৫. দাঁত ওঠা বা মুখে ঘা

দাঁত উঠলে মাড়ি ব্যথা করে। মুখের ভেতরে ঘা বা থ্রাশ থাকলেও খাবার চিবাতে ও গিলতে কষ্ট হয়। শিশু খাবার দেখেই কান্না করলে মুখের ভেতরটা একবার দেখে নিন।

৬. অসুস্থতা বা শরীরের অন্য সমস্যা

জ্বর, সর্দি, কান পাকা, পেটের সংক্রমণ বা কোষ্ঠকাঠিন্যে ক্ষুধা কমে যায়। রক্তস্বল্পতা (ফ্যাকাশে চেহারা, দ্রুত ক্লান্ত হওয়া), কৃমি এবং পুষ্টির ঘাটতিও দীর্ঘদিন ক্ষুধা কমিয়ে রাখতে পারে। এসব ক্ষেত্রে শুধু খাওয়ানোর কৌশলে কাজ হয় না, কারণ খুঁজে চিকিৎসা লাগে।

৭. টিভি, মোবাইল ও দৌড়ানো খাওয়া

মোবাইলে ভিডিও দেখিয়ে বা শিশুকে ঘুরে ঘুরে খাওয়ানো অভ্যাস হয়ে গেলে শিশু খাবারের স্বাদ বা পেট ভরার অনুভূতি টের পায় না। পরে মোবাইল ছাড়া সে খেতেই চায় না।

৮. খাবারের ধরন বা টেক্সচার পছন্দ না হওয়া

ছয় থেকে বারো মাসে নরম, গোলানো খাবার থেকে একটু শক্ত বা টুকরো খাবারে যেতে শিশুর সময় লাগে। এই ধাপে বমি-বমি ভাব বা গ্যাগ রিফ্লেক্স দেখলে অনেক বাবা-মা ভয় পেয়ে আবার সব পিষে খাওয়ান। অথচ দেরিতে টেক্সচার বদলালে পরে শিশু আরও ঝামেলা করতে পারে।

বয়স অনুযায়ী কী স্বাভাবিক

ছয় থেকে আট মাস: মায়ের দুধ চলতে থাকবে। WHO বলছে, ছয় মাস থেকে পরিপূরক খাবার শুরু হবে এবং এই বয়সে দিনে ২ থেকে ৩ বার খাবার দেওয়া যায়। প্রথম কয়েক সপ্তাহে শিশু খুব অল্প খাবে, কখনো এক-দুই চামচ। এটা স্বাভাবিক। উদ্দেশ্য এখন স্বাদ ও টেক্সচারে অভ্যস্ত করা।

নয় থেকে তেইশ মাস: WHO অনুযায়ী দিনে ৩ থেকে ৪ বার মূল খাবার এবং দরকার হলে ১ থেকে ২ বার স্ন্যাক্স দেওয়া হবে। মায়ের দুধ দুই বছর বা তার বেশি পর্যন্ত চালানো যায়।

দুই থেকে ছয় বছর: শিশু নিজে বসে খেতে শেখে, কিন্তু পছন্দ-অপছন্দ প্রবল হয়। কয়েকটি খাবার শুধু খেয়ে কয়েক সপ্তাহ কাটানো এই বয়সে সাধারণ। একে বলা হয় “ফুড জ্যাগ”। সাধারণত নিজে থেকে কেটে যায়।

ঘরে কী করলে কাজ হয়

খাবারের সময় ঠিক করুন

শিশুর জন্য তিনটি মূল খাবার ও দুটি ছোট স্ন্যাক্সের একটি সময়সূচি বানান। প্রতিটির মাঝে দুই থেকে তিন ঘণ্টার ফাঁক রাখুন। এই ফাঁকে শুধু পানি। এতে ক্ষুধা তৈরি হয়ে খাবারের সময় আসে।

খাওয়া ২০ থেকে ৩০ মিনিটে শেষ করুন

শিশু না খেলে বিনা বকাবকিতে প্লেট তুলে নিন। পরের নির্ধারিত সময় পর্যন্ত আর কিছু দেবেন না, দুধ বা বিস্কুটও নয়। প্রথম দু-একদিন কঠিন লাগবে। শিশু বুঝে যাবে যে পরের খাবারের সময় না আসা পর্যন্ত খিদে মিটবে না, আর পরেরবার ভালো খাবে।

অল্প পরিমাণ দিন

বড় প্লেট দেখলে শিশু হতাশ হয়। এক-দুই চামচ দিয়ে শুরু করুন। চাইলে আবার দিন। শেষ করতে পারলে সে সফল বোধ করে।

নতুন খাবার পরিচিত খাবারের পাশে রাখুন

যেমন, শিশু ডিম খায় কিন্তু লাউ খায় না। ডিমের পাশে এক-দুই টুকরো লাউ রাখুন। জোর করবেন না, শুধু প্লেটে থাকতে দিন। দেখতে দেখতে সে একদিন চেখে দেখবে।

একই টেবিলে একসঙ্গে খান

শিশু বড়দের খেতে দেখে শেখে। পরিবারের সঙ্গে বসে খেলে সে ভাত, মাছ, সবজি খাওয়াকে স্বাভাবিক ধরে নেয়। আপনি নিজে অপছন্দের খাবারে মুখ বিকৃত করলে সে সেটাও নকল করবে।

শিশুকে কাজে লাগান

এক বছরের বেশি বয়সী শিশুকে ধোয়া সবজি পাত্রে রাখতে, ডিম ফাটার সময় পাশে দাঁড়াতে বা নিজের প্লেট বেছে নিতে দিন। নিজের হাতে ছোঁয়া খাবার সে সহজে মুখে নেয়।

নিজে খাওয়ার সুযোগ দিন

মোটামুটি নয় মাস বয়স থেকে হাতে ধরার মতো নরম টুকরো দিন, যেমন সেদ্ধ আলু, কুমড়া, গাজর বা কলা। খাবার ছড়িয়ে নোংরা হবে। সেটা শেখার অংশ।

খাবারকে শক্তিসমৃদ্ধ করুন

শিশুর পেট ছোট, তাই অল্প খাবারে বেশি পুষ্টি দরকার। খিচুড়িতে ডিম, মাছ বা মুরগির কিমা এবং সবজি দিন। এক চামচ সরিষার তেল বা ঘি মেশালে খাবারের শক্তি বাড়ে। দুধ-সুজি, ডাল-ভাত, ডিম-ভাত, সেদ্ধ মিষ্টিকুমড়া ও কলা সাধারণ ঘরোয়া বিকল্প। WHO বলছে, শিশুর খাদ্যতালিকায় পশুজ খাবার, ফল, সবজি ও ডাল ধরনের বৈচিত্র্য রাখা উচিত।

যা করবেন না

জোর করে খাওয়াবেন না। মুখ ধরে বা পেছনে ছুটে খাওয়ালে শিশু খাবারকে ভয় পেতে শুরু করে। WHO-র নির্দেশিকায় বলা আছে, শিশুকে উৎসাহ দিন, কিন্তু জোর করবেন না।

ঘুষ বা শাস্তি দেবেন না। “ভাত খেলে চকলেট পাবে” বললে ভাতকে সে কাজ আর চকলেটকে পুরস্কার মনে করবে। শাস্তি দিলে খাওয়ার সময়টা ভয়ের হয়ে যায়।

অন্য শিশুর সঙ্গে তুলনা করবেন না। “দেখো পাশের বাড়ির বাবু কত খায়” বললে শিশুর মনে শুধু বিরক্তি বা লজ্জা জন্মায়।

নিজে থেকে ক্ষুধা বাড়ানোর সিরাপ কিনে খাওয়াবেন না। ফার্মেসিতে এ ধরনের অনেক সিরাপ পাওয়া যায়। ডাক্তার না বললে দেবেন না। ক্ষুধা কমার পেছনে কৃমি, রক্তস্বল্পতা বা অন্য কারণ থাকলে সিরাপে সমস্যা ঢাকা পড়ে।

খাওয়ার ফাঁকে জুস বা মিষ্টি জাতীয় জিনিস অতিরিক্ত দেবেন না। পেট ভরে যায়, মূল খাবারে অনীহা আসে।

মধু এক বছরের নিচে দেবেন না। এতে ঝুঁকিপূর্ণ জীবাণু থাকতে পারে।

ছোট শিশুর হাতে গোটা বাদাম, শক্ত ফলের টুকরো বা আস্ত আঙুর দেবেন না। গলায় আটকে যেতে পারে। বড় টুকরো কেটে বা ছোট করে দিন।

ডাক্তার দেখান কখন

খাওয়া কম হলেও শিশু চঞ্চল, হাসিখুশি ও ওজন ঠিকমতো বাড়লে সাধারণত অপেক্ষা করা যায়। নিচের কোনোটি থাকলে শিশু বিশেষজ্ঞকে দেখান:

  • ওজন কয়েক মাস ধরে বাড়ছে না, কিংবা কমে যাচ্ছে
  • শিশু একেবারে সব ধরনের শক্ত খাবার প্রত্যাখ্যান করছে
  • খাওয়ার সময় বারবার বমি, কাশি বা দম আটকানোর মতো লক্ষণ
  • দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য বা পাতলা পায়খানা
  • চেহারা ফ্যাকাশে, সহজে ক্লান্ত, খেলায় আগ্রহ নেই
  • বারবার জ্বর বা সংক্রমণ
  • মুখে ঘা বা গিলতে কষ্ট
  • ছয় মাসের পর শিশু খাবার মুখেই নিতে পারছে না

ছয় মাসের কম বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে দুধ খেতে না চাইলে অপেক্ষা না করে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের কাছে যান। তিন মাসের কম বয়সী শিশুর জ্বর, খিঁচুনি, শ্বাসকষ্ট বা একেবারে নিস্তেজ হয়ে যাওয়া জরুরি অবস্থা। জরুরি ক্ষেত্রে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা যায়।

শিশুর ওজন ঠিকমতো বাড়ছে কি না দেখতে বাংলাদেশের শিশু স্বাস্থ্য কার্ডে বা টিকা কার্ডে ওজন লিখে রাখুন। WHO-র চাইল্ড গ্রোথ স্ট্যান্ডার্ডস টুল থেকে শিশুর বয়স অনুযায়ী ওজন-উচ্চতার মান জানা যায়: https://www.who.int/tools/child-growth-standards

একটি বাস্তব ঘটনা: যেভাবে সমস্যা বাড়ে

ধরুন দুই বছরের রাহাত সকালে ঘুম থেকে উঠেই এক বোতল দুধ খায়। দশটায় মা বিস্কুট দেন, কারণ সে ভাত খায় না। দুপুরে ভাতের সময় সে প্লেট ঠেলে দেয়। মা তখন মোবাইলে কার্টুন চালিয়ে কয়েক চামচ ঢুকিয়ে দেন। বিকেলে আবার দুধ, রাতে আবার।

এখানে রাহাতের সমস্যা “ভাত না খাওয়া” নয়। দিনে চার-পাঁচবার দুধ ও বিস্কুটে পেট ভরে যাচ্ছে, ভাতের জন্য ক্ষুধাই নেই। সমাধান হলো দুধ দিনে দুইবারে নামানো, বিস্কুট বাদ দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে ফল বা সেদ্ধ সবজি দেওয়া, আর মোবাইল সরিয়ে পরিবারের সঙ্গে বসিয়ে খাওয়ানো। এক-দুই সপ্তাহে ফল দেখা যায়। এটি একটি উদাহরণ, প্রতিটি শিশুর ক্ষেত্রে আলাদা পরিকল্পনা লাগতে পারে।

সাধারণ প্রশ্নের উত্তর

বাচ্চা সারাদিন শুধু দুধ খায়, ভাত খায় না। কী করব?

এক বছরের বেশি বয়সী শিশুর জন্য দুধের পরিমাণ কমান এবং খাবারের আগে দুধ দেবেন না। মূল খাবারের সময় আগে ভাত বা খিচুড়ি দিন, দুধ খাবারের পরে দিন। দুধ কতটা দেবেন, তা ডাক্তারের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করুন।

বাচ্চা কেবল ভাতের নরম অংশ খায়, শক্ত কিছু খায় না। কী করব?

ধাপে ধাপে টেক্সচার বদলান। পুরো বদলে না দিয়ে আগে সামান্য শক্ত টুকরো মিশিয়ে দিন। বয়স অনুযায়ী নিয়মিত অভ্যাস করালে এই সমস্যা কমে।

ভিডিও দেখিয়ে খাওয়ানো কি ক্ষতিকর?

ক্ষতিকর, কারণ শিশু খাবারে মনোযোগ দেয় না এবং পেট ভরার সংকেত বুঝতে পারে না। এতে অতিরিক্ত বা কম, দুই ধরনের খাওয়ার সমস্যা হতে পারে। খাওয়ার সময় স্ক্রিন বন্ধ রাখুন।

ক্ষুধা বাড়ানোর জন্য ভিটামিন বা সিরাপ খাওয়ানো কি ঠিক?

ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নয়। ক্ষুধা কমার কারণ খুঁজে বের করা আগে জরুরি। শিশু বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন হলে রক্তস্বল্পতা বা কৃমির পরীক্ষা ও সঠিক ওষুধের পরামর্শ দেবেন।

একই খাবার বারবার দিলে কি বিরক্ত হয়ে যাবে?

না। প্রত্যাখ্যান করলেও খাবারটি মাঝে মাঝে প্লেটে রাখতে থাকুন, জোর না করে। বারবার দেখা ও চেনার মধ্য দিয়ে শিশু সেটা গ্রহণ করতে শেখে।

বাচ্চা কতটুকু খেলে যথেষ্ট?

কোনো এক নির্দিষ্ট পরিমাণ নেই। শিশুর ওজন, উচ্চতা, কর্মচাঞ্চল্য ও সুস্থতা দেখুন। ওজন নিয়মিত বাড়লে এবং শিশু সক্রিয় থাকলে সাধারণত যথেষ্ট খাচ্ছে।

শেষ কথা

বাচ্চা খেতে না চাইলে প্রথমে কারণটা খুঁজুন: বয়স, অসুস্থতা, নাকি খাওয়ানোর অভ্যাস। নির্দিষ্ট সময়, ছোট পরিমাণ, চাপমুক্ত পরিবেশ আর বৈচিত্র্যময় খাবার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সমস্যা মেটায়। ওজন না বাড়লে, বারবার অসুস্থ হলে বা খাওয়ার সময় বমি-কাশি থাকলে দেরি না করে শিশু বিশেষজ্ঞকে দেখান।

৬ থেকে ১২ মাস বয়সী শিশুর খাবারের ক্ষেত্রে যা অবশ্যই মনে রাখবেন

গর্ভবতী মায়ের যে বিষয় গুলো অবশ্যই মেনে চলতে হবে

ট্যাগঃ ছোট বাচ্চাদের খাওয়ার রুচির ঔষধ, বাচ্চা বুকের দুধ খেতে না চাইলে করনীয়, ২ বছরের বাচ্চা খেতে না চাইলে করনীয়, ৫ মাসের বাচ্চা খেতে না চাইলে করনীয়, বাচ্চা বুকের দুধ খেতে চায় না কেন, শিশুর মুখে রুচি আনার উপায়, শিশুদের খেতে না চাওয়ার কারণ কি, ১ বছরের বাচ্চা খেতে না চাইলে করনীয়

Related Articles

Back to top button