মোবাইল ব্যাংকিং

বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম: অ্যাপ দিয়ে ঘরে বসে

বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিং এখন দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ, আর এই খাতে সবচেয়ে পরিচিত নাম বিকাশ। টাকা পাঠানো, ক্যাশ আউট, মোবাইল রিচার্জ, বিদ্যুৎ বিল, কেনাকাটা, প্রায় সব কাজেই এখন বিকাশ লাগে। তাই নতুন ব্যবহারকারীদের প্রথম প্রশ্ন একটাই: বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম কী?

ভালো খবর হলো, এখন আর এজেন্টের দোকানে লাইন ধরার দরকার নেই, শুধু একটি স্মার্টফোন, আপনার NID আর একটি সচল মোবাইল নম্বর থাকলেই ঘরে বসে কয়েক মিনিটে বিকাশ অ্যাপ দিয়ে একাউন্ট খোলা যায়। এই গাইডে ধাপে ধাপে দেখানো হলো অ্যাপ দিয়ে একাউন্ট খোলার নিয়ম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, শিক্ষার্থী ও বিদেশ থেকে একাউন্ট খোলার আলাদা পদ্ধতি, এবং কিছু জরুরি সতর্কতা।

বিকাশ দিয়ে পেমেন্ট পাওয়া যায় এমন ৫ Freelancing সাইট ২০২৬

একাউন্ট খোলার আগে যা যা লাগবে

শুরুর আগে নিচের জিনিসগুলো হাতের কাছে রাখুন, তাহলে পুরো প্রক্রিয়া বিনা বাধায় শেষ হবে। একটি সচল মোবাইল নম্বর (যেটিতে বিকাশ খুলবেন), একটি স্মার্টফোনে ইনস্টল করা বিকাশ অ্যাপ, এবং আপনার মূল জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)। বিকাশে একাউন্ট খোলার মূল ধাপ হলো NID ভেরিফিকেশন; মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস নিতে হলে আপনার NID থাকা আবশ্যক। NID-র সামনে ও পেছনের পরিষ্কার ছবি তোলার জন্য ভালো আলো নিশ্চিত করুন, কারণ অ্যাপে ছবি তুলে আপলোড করতে হবে।

বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম: অ্যাপ দিয়ে ধাপে ধাপে

NID দিয়ে বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম এখন সম্পূর্ণ অ্যাপনির্ভর ও সহজ। নিচের ধাপগুলো ক্রমান্বয়ে অনুসরণ করুন।

প্রথমে Google Play Store বা App Store থেকে bKash অ্যাপ ডাউনলোড করে ইনস্টল করুন। অ্যাপ খুললে কিছু পারমিশন চাইবে, সেগুলো অনুমতি দিন। এরপর ড্যাশবোর্ড থেকে “লগইন/রেজিস্ট্রেশন” বাটনে ক্লিক করুন। এবার যে মোবাইল নম্বরে একাউন্ট খুলতে চান সেটি দিন এবং আপনার সিমের অপারেটর নির্বাচন করুন। আপনার নম্বরে একটি OTP (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) আসবে সেটি অ্যাপে দিয়ে নম্বর ভেরিফাই করুন। এরপর শর্তাবলি পড়ে সম্মতি দিন।

পরের ধাপে আপনার NID-র সামনের ও পেছনের ছবি তুলে আপলোড করুন; অ্যাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য পড়ে নেবে, তবে সব তথ্য ভালো করে মিলিয়ে নিন। এরপর নিজের একটি সেলফি তুলতে বলা হবে (ই-কেওয়াইসি/eKYC যাচাইয়ের জন্য) নির্দেশ অনুযায়ী চোখের পলক ফেলুন বা মাথা ঘোরান। সব তথ্য জমা দেওয়ার পর কিছুক্ষণের মধ্যে যাচাই সম্পন্ন হবে। সবশেষে আপনার পছন্দের ৫ সংখ্যার একটি গোপন পিন সেট করুন এবং বিকাশ অ্যাপে লগইন করুন। সব ধাপ শেষে পিন সেট করে বিকাশ অ্যাপে লগইন করতে হয়, এবং পিন নম্বরটি সবসময় গোপন রাখতে হয়।

ব্যস, আপনার বিকাশ একাউন্ট তৈরি। এখন টাকা যোগ করে (অ্যাড মানি বা ক্যাশ ইন) লেনদেন শুরু করতে পারবেন।

এজেন্ট বা ডিজিটাল পয়েন্ট থেকে একাউন্ট খোলা

যাঁদের স্মার্টফোন নেই বা অ্যাপে স্বচ্ছন্দ নন, তাঁরা নিকটবর্তী বিকাশ ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন পয়েন্ট বা এজেন্ট থেকেও একাউন্ট খুলতে পারেন। নিকটবর্তী ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন পয়েন্টে ই-কেওয়াইসির মাধ্যমে একাউন্ট খোলা যায়; এজেন্ট আপনার মোবাইল নম্বর ও অপারেটর নিশ্চিত করে একাউন্ট খোলার অনুমতি নেন এবং আপনার নম্বরে পাঠানো রেফারেন্স নম্বর সংগ্রহ করেন। এ ক্ষেত্রে আপনার NID ও মোবাইল নম্বর সঙ্গে নিয়ে যান।

শিক্ষার্থীদের জন্য বিকাশ স্টুডেন্ট একাউন্ট

আগে ১৮ বছরের কম বয়সী বা NID না থাকা শিক্ষার্থীরা বিকাশ খুলতে পারতেন না। এখন বিকাশ স্টুডেন্ট একাউন্ট এনেছে, যা এই সমস্যার সমাধান করেছে। এখন NID কার্ড ছাড়া শুধুমাত্র জন্মনিবন্ধন সার্টিফিকেট এবং মা/বাবার সচল বিকাশ একাউন্ট দিয়ে শিক্ষার্থীরা একাউন্ট খুলতে পারেন, এবং নতুন স্টুডেন্ট একাউন্ট খুলে বোনাসও পাওয়া যায়। শর্ত হলো অভিভাবকের একটি সচল বিকাশ একাউন্ট থাকতে হবে, এবং পুরো প্রক্রিয়াটি বিকাশ অ্যাপ থেকেই করা যায়।

বিদেশ থেকে বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম

প্রবাসীরাও এখন বিদেশে বসে বিকাশ একাউন্ট খুলতে পারেন, যা রেমিট্যান্স গ্রহণ ও দেশে পরিবারকে টাকা পাঠানোর কাজ সহজ করে। প্রক্রিয়া অনেকটা দেশের মতোই, অ্যাপে নম্বর দিয়ে OTP ভেরিফাই করতে হয়, তবে অতিরিক্ত একটি ধাপ থাকে। শর্তাবলিতে সম্মতি দেওয়ার পর বিদেশে থাকার প্রমাণ হিসেবে পাসপোর্টের দেশত্যাগ/বিদেশে আগমনের স্ট্যাম্পের ছবি আপলোড করতে হয়। বাকি ধাপ (NID যাচাই, সেলফি, পিন সেট) একই থাকে।

ব্র্যাক ব্যাংক একাউন্ট, কার্ড, লোন, এফডিআর, শাখা, চার্জ

বিকাশ একাউন্টের ধরন: কোনটি আপনার জন্য

সব বিকাশ একাউন্ট এক নয়। নিচের টেবিলে মূল ধরনগুলো দেখে নিন, যাতে বুঝতে পারেন আপনার কোনটি দরকার:

একাউন্টের ধরনকাদের জন্যপ্রধান কাগজ
ব্যক্তিগত (Personal)সাধারণ ব্যবহারকারীNID
স্টুডেন্টNID নেই/১৮-র কম শিক্ষার্থীজন্মনিবন্ধন + অভিভাবকের বিকাশ
প্রবাসী (বিদেশ থেকে)বিদেশে থাকা বাংলাদেশিNID + পাসপোর্ট স্ট্যাম্প
এজেন্টব্যবসায়ী/দোকানদারট্রেড লাইসেন্স + NID

বেশিরভাগ সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য ব্যক্তিগত একাউন্টই যথেষ্ট। ব্যবসার জন্য আলাদা করে এজেন্ট বা মার্চেন্ট একাউন্ট লাগে, যার নিয়ম আলাদা ও তুলনামূলক জটিল।

পিন ও নিরাপত্তা: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ

একাউন্ট খোলার চেয়েও জরুরি হলো সেটি নিরাপদ রাখা, কারণ এখানে আপনার আসল টাকা থাকে। আপনার ৫ সংখ্যার পিন কখনো কাউকে বলবেন না—বিকাশ কর্মী পরিচয়ে ফোন করলেও নয়। মনে রাখবেন, বিকাশ কখনো ফোনে আপনার পিন বা OTP জানতে চায় না; কেউ চাইলে বুঝবেন এটি প্রতারণা। সহজ পিন (যেমন 12345, জন্মসাল) এড়িয়ে চলুন এবং নিয়মিত পিন পরিবর্তন করুন। অপরিচিত লিংকে ক্লিক করে বা ভুয়া “ক্যাশব্যাক/লটারি” অফারে সাড়া দিয়ে কখনো তথ্য দেবেন না।

বাস্তব টিপস

NID-র ছবি তোলার সময় ভালো আলোতে, সমান জায়গায় রেখে ছবি তুলুন, ঝাপসা ছবি হলে যাচাইয়ে দেরি হয়। যে নম্বরে একাউন্ট খুলছেন, সেটি যেন আপনার নিজের নামে নিবন্ধিত হয়, NID ও সিম নিবন্ধনের তথ্য না মিললে সমস্যা হতে পারে। একটি NID দিয়ে সাধারণত একটিই ব্যক্তিগত বিকাশ একাউন্ট খোলা যায়, তাই তথ্য সাবধানে দিন। আর একাউন্ট খোলার পর অ্যাপ আপডেটেড রাখুন, যাতে নতুন নিরাপত্তা ফিচার পান।

বিকাশ
বিকাশ

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

বিকাশ একাউন্ট খুলতে কী কী লাগে?

একটি সচল মোবাইল নম্বর, স্মার্টফোনে বিকাশ অ্যাপ এবং আপনার মূল NID লাগে। শিক্ষার্থীরা জন্মনিবন্ধন ও অভিভাবকের বিকাশ একাউন্ট দিয়েও খুলতে পারেন।

NID ছাড়া কি বিকাশ একাউন্ট খোলা যায়?

সাধারণ ব্যক্তিগত একাউন্টের জন্য NID লাগে। তবে শিক্ষার্থীরা NID ছাড়া জন্মনিবন্ধন ও অভিভাবকের সচল বিকাশ একাউন্ট দিয়ে স্টুডেন্ট একাউন্ট খুলতে পারেন।

বিকাশ একাউন্ট খুলতে কত টাকা লাগে?

একাউন্ট খোলা বিনামূল্যে; কোনো ফি লাগে না। তবে লেনদেন শুরু করতে অ্যাড মানি বা ক্যাশ ইন করতে হয়।

অ্যাপ দিয়ে একাউন্ট খুলতে কতক্ষণ লাগে?

তথ্য ও ছবি ঠিক থাকলে সাধারণত কয়েক মিনিটেই প্রক্রিয়া শেষ হয়; যাচাই সম্পন্ন হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার শুরু করা যায়।

একটি NID দিয়ে কয়টি বিকাশ একাউন্ট খোলা যায়?

সাধারণত একটি NID দিয়ে একটিই ব্যক্তিগত বিকাশ একাউন্ট খোলা যায়।

বিদেশ থেকে বিকাশ একাউন্ট খোলা যায় কি?

হ্যাঁ। অ্যাপে নম্বর ভেরিফাই করে, NID যাচাই ও পাসপোর্টের দেশত্যাগ স্ট্যাম্পের ছবি আপলোড করে প্রবাসীরা বিদেশ থেকে একাউন্ট খুলতে পারেন।

Back to top button
error: