অনলাইন আয়

নগদে টাকা তোলা যায় এমন Online Income Apps বাংলাদেশ ২০২৬

শুরুতেই একটা সত্যি কথা বলি “নগদে টাকা তোলা যায় এমন অ্যাপ”, এই কথাটা Google-এ লিখলে হাজারটা আর্টিকেল পাবেন। বেশিরভাগেই একই গল্প, দশটা অ্যাপের নাম, দুই লাইন করে বর্ণনা, শেষে “এখনই শুরু করুন।”

কিন্তু কেউ বলে না যে এর মধ্যে কতগুলো আসলে কাজ করে। কোনটায় সত্যিই মাসে ভালো আয় হয়, কোনটা শুধু সময় নষ্ট করে, আর কোনগুলো আসলে ফাঁদ।

এই আর্টিকেলে সেই সত্যিটাই বলব।

নগদ (Nagad) হলো বাংলাদেশ পোস্ট অফিসের ডিজিটাল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস, এবং ২০২৬ সালে এটি বাংলাদেশের অন্যতম সস্তা ক্যাশ আউট অপশন। বর্তমানে নগদ অ্যাপ দিয়ে ক্যাশ আউটের চার্জ মাত্র প্রায় ১.৩০% (প্রতি হাজারে ১২.৯৯ টাকা + ভ্যাট), যা bKash-এর স্ট্যান্ডার্ড ১.৮৫%-এর চেয়ে কম। এই কারণে অনেক অনলাইন আয়কারী নগদকে পেমেন্ট তোলার প্রথম পছন্দ হিসেবে রাখেন।

কিন্তু কোন অ্যাপগুলো আসলে নগদে পেমেন্ট দেয়? এবং সেগুলো কতটুকু বিশ্বাসযোগ্য?

বিকাশ দিয়ে পেমেন্ট পাওয়া যায় এমন ৫ Freelancing সাইট ২০২৬

নগদে পেমেন্ট মানে কী — এটা আগে পরিষ্কার হওয়া দরকার

একটা অ্যাপ “নগদে পেমেন্ট দেয়”, এই কথাটার মানে সব সময় এক না।

কিছু অ্যাপ সরাসরি তোমার নগদ নম্বরে টাকা পাঠায়। কিছু অ্যাপ টাকা একটা ইন্টারমিডিয়ারি প্ল্যাটফর্মে পাঠায় (যেমন Payoneer বা ব্যাংক), সেখান থেকে তুমি নগদে আনতে পারো। আর কিছু অ্যাপ বলে “নগদ সাপোর্ট করে” কিন্তু আসলে সেই ফিচারটা কাজ করে না বা করতে অনেক শর্ত পূরণ করতে হয়।

তাই প্রতিটি অ্যাপের ক্ষেত্রে আমি পরিষ্কার করে বলব, পেমেন্ট ঠিক কীভাবে আসে, কতটা নির্ভরযোগ্য, এবং কী পরিমাণ সময় বা দক্ষতা লাগবে।

ক্যাটাগরি অনুযায়ী বোঝা দরকার

অনলাইন ইনকাম অ্যাপগুলো আসলে দুই রকম, একটা হলো দক্ষতা-ভিত্তিক আয় (Skill-based income), আরেকটা হলো কাজ-ভিত্তিক আয় (Task/gig-based income)।

দক্ষতা-ভিত্তিক আয়ে তুমি কোনো স্কিল ব্যবহার করো, ডিজাইন, লেখা, রাইডিং, রিসেলিং। এখানে আয় বেশি এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই। কাজ-ভিত্তিক আয়ে তুমি সার্ভে দাও, ভিডিও দেখো, ছোট ছোট মাইক্রো-টাস্ক করো। এখানে আয় কম কিন্তু শুরু করা সহজ।

দুটোরই জায়গা আছে, কিন্তু দুটো এক না।

১. Daraz Affiliate App — দেশের সবচেয়ে বড় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে কমিশন

পেমেন্ট পদ্ধতি: নগদ, bKash, Rocket, ব্যাংক
আয়ের ধরন: প্রোডাক্ট লিংক শেয়ার করলে কমিশন
কতটুকু বাস্তব আয় সম্ভব: মাসে ২,০০০ থেকে ২০,০০০+ টাকা, নির্ভর করে ট্র্যাফিকের উপর

Daraz বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম, Alibaba গ্রুপের অংশ। Daraz-এর Affiliate Program-এ যোগ দিলে তুমি যেকোনো প্রোডাক্টের লিংক তৈরি করে Facebook, YouTube, WhatsApp বা ব্লগে শেয়ার করতে পারো। কেউ সেই লিংকে ক্লিক করে কিনলে তুমি কমিশন পাবে।

২০২২ সালে Daraz সরাসরি নগদের সাথে পার্টনারশিপ চুক্তি করেছে। এর মানে পেমেন্ট সরাসরি নগদে তোলার অপশন এখন আনুষ্ঠানিকভাবে সক্রিয়।

কারা এখানে ভালো করে?

যাদের Facebook Page বা Group-এ ভালো ফলোয়ার আছে তারা সবচেয়ে দ্রুত আয় শুরু করতে পারেন। YouTube চ্যানেল থেকে প্রোডাক্ট রিভিউ করলে দীর্ঘমেয়াদে ভালো প্যাসিভ আয় হয়। ব্লগ বা ওয়েবসাইট থেকে Daraz অ্যাফিলিয়েট চালালে SEO ট্র্যাফিক আসলে কমিশন নিজে নিজে জমতে থাকে।

সতর্কতা কোথায়?

কমিশনের হার প্রোডাক্ট ক্যাটাগরি অনুযায়ী ভিন্ন, ইলেকট্রনিক্সে কম (১-২%), ফ্যাশন ও বিউটিতে বেশি (৫-৮%)। সেলসাইকেল শেষ হওয়ার পর পেমেন্ট সাধারণত সাপ্তাহিক বা মাসিক চক্রে আসে, প্রতিদিন না।

শুরু করার উপায়: Daraz Affiliate পেজে গিয়ে নিবন্ধন করো। আবেদনে তোমার ট্র্যাফিক সোর্স (Facebook Page, YouTube, Blog) উল্লেখ করতে হবে।

২. ShopUp Reseller App — স্টক ছাড়াই ব্যবসা

পেমেন্ট পদ্ধতি: নগদ, bKash, Rocket
আয়ের ধরন: প্রোডাক্ট রিসেল করলে মার্জিন
কতটুকু বাস্তব আয় সম্ভব: মাসে ৫,০০০ থেকে ৩০,০০০+ টাকা, পরিশ্রম ও নেটওয়ার্ক অনুযায়ী

ShopUp বাংলাদেশের একটি homegrown প্ল্যাটফর্ম যেটা reseller-দের জন্য তৈরি। তুমি ShopUp থেকে প্রোডাক্ট বেছে নাও, নিজের দামে Facebook বা WhatsApp-এ বেচো, অর্ডার হলে ShopUp-এ দাও, ডেলিভারি ওরাই করে। তোমার কাজ শুধু বেচা আর অর্ডার দেওয়া।

সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এখানে কোনো পণ্য কিনে রাখতে হয় না। নিজের কোনো স্টক লাগে না। বিক্রি হলে তবেই টাকা খরচ, আগে না। এই কারণে শুরু করতে কোনো মূলধন লাগে না।

কারা ভালো করে?

বড় Facebook Group বা Active WhatsApp Network যাদের আছে তারা এই মডেলে দ্রুত কাজ পায়। গৃহিণীরা যারা বাড়ি থেকে আয় করতে চান তাদের মধ্যে ShopUp অত্যন্ত জনপ্রিয়।

পেমেন্ট কীভাবে আসে?

অর্ডার ডেলিভার হলে তোমার লাভের অংশ নগদ, bKash বা Rocket-এ সরাসরি পাঠানো হয়। সেটেলমেন্ট সাইকেল সাধারণত কয়েক কার্যদিবসের মধ্যে।

সতর্কতা কোথায়?

ShopUp-এ প্রোডাক্টের মান নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ তোমার হাতে নেই। ক্লায়েন্ট অভিযোগ করলে সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি আছে। প্রোডাক্ট কিনে রিভিউ না করে বেচা উচিত নয়।

৩. Pathao — রাইড শেয়ারিং ও ডেলিভারি থেকে আয়

পেমেন্ট পদ্ধতি: নগদ, bKash, ব্যাংক
আয়ের ধরন: রাইড বা ডেলিভারি সম্পন্ন করলে আয়
কতটুকু বাস্তব আয় সম্ভব: মাসে ১৫,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকা (মোটরসাইকেল রাইডার)

Pathao বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাইড-শেয়ারিং ও ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ বড় শহরগুলোতে সক্রিয়। মোটরসাইকেল রাইডার হিসেবে যোগ দিলে রাইড ও পণ্য ডেলিভারি দুটো থেকেই আয় করা যায়।

এটা “অনলাইন ইনকাম” হলেও পুরোটা ঘরে বসে নয়, শারীরিকভাবে বাইরে যেতে হবে। কিন্তু আয়ের নির্ভরযোগ্যতার দিক থেকে এটা অনেক বেশি বাস্তব।

কেন এটা তালিকায় রাখলাম?

কারণ বেশিরভাগ “মোবাইলে বসে আয়” অ্যাপে যা আয় হয় তার চেয়ে Pathao-তে একদিনে বেশি আয় সম্ভব। এটা একটা সৎ তুলনা।

পেমেন্ট কীভাবে আসে?

Pathao অ্যাপের মধ্যে “Pathao Cash” ওয়ালেটে আয় জমা হয়। সেখান থেকে নগদ বা bKash-এ সরাসরি উইথড্র করা যায়। উইথড্র প্রক্রিয়া সাধারণত ১-৩ কার্যদিবসে সম্পন্ন হয়।

শর্ত:

মোটরসাইকেল বা সাইকেল থাকতে হবে। ড্রাইভিং লাইসেন্স (মোটরসাইকেলের জন্য) প্রয়োজন। NID এবং গাড়ির কাগজপত্র লাগবে।

৪. BanglaTask / BD Micro Job — মাইক্রো-টাস্ক থেকে ছোট কিন্তু নিয়মিত আয়

পেমেন্ট পদ্ধতি: নগদ, bKash
আয়ের ধরন: ছোট ছোট অনলাইন টাস্ক সম্পন্ন করলে পয়েন্ট, পয়েন্ট দিয়ে ক্যাশ আউট
কতটুকু বাস্তব আয় সম্ভব: নিয়মিত ব্যবহারকারী দিনে ৫০০-১,০০০ টাকা পর্যন্ত (কিন্তু প্রতিদিন নিশ্চিত নয়)

BanglaTask এবং একই ধরনের BD Micro Job প্ল্যাটফর্মগুলো বাংলাদেশের জন্য তৈরি মাইক্রো-টাস্ক সাইট। এখানে কাজ হলো, ওয়েবসাইটে ভিজিট করো, YouTube ভিডিওতে লাইক দাও, কোনো পেজে কমেন্ট করো, সার্ভে পূরণ করো, এই ধরনের ছোট কাজ। প্রতিটি কাজে নির্দিষ্ট পয়েন্ট পাওয়া যায়, নির্দিষ্ট পরিমাণ জমলে নগদ বা bKash-এ উইথড্র করা যায়।

কোথায় ভালো, কোথায় সীমাবদ্ধতা?

সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এখানে কোনো দক্ষতা লাগে না। স্মার্টফোন আর ইন্টারনেট থাকলেই শুরু করা যায়। এই কারণে শিক্ষার্থী বা যারা প্রথমবার অনলাইনে আয় করতে চান তাদের জন্য এটা একটা প্রবেশদ্বার।

কিন্তু সৎভাবে বলতে হবে, এটা দিয়ে সংসার চলবে না। একটা নির্দিষ্ট পরিমাণের পর আর কাজ পাওয়া যায় না বা পয়েন্টের হার কমে যায়। অনেকেরই অভিযোগ আছে পেমেন্ট প্রসেসিং দেরিতে হওয়া নিয়ে।

কীভাবে ব্যবহার করবে?

এই ধরনের প্ল্যাটফর্মকে মূল আয়ের জায়গা হিসেবে নয়, বরং অলস সময়ে অতিরিক্ত কিছু আয়ের উপায় হিসেবে দেখো। দিনে ১-২ ঘণ্টার বেশি সময় দেওয়ার দরকার নেই।

গুরুত্বপূর্ণ: BanglaTask এবং অনুরূপ প্ল্যাটফর্মে কাজ করার আগে নিশ্চিত হও যে প্ল্যাটফর্মটা প্রকৃত পেমেন্ট প্রুফ দেখিয়েছে। নতুন প্ল্যাটফর্মে টাকা বিনিয়োগ করো না।

৫. Weekmotion — বাংলাদেশি ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মে আয়

পেমেন্ট পদ্ধতি: নগদ, bKash
আয়ের ধরন: ভিডিও দেখা, সার্ভে, ক্যাম্পেইন প্রমোশন
কতটুকু বাস্তব আয় সম্ভব: ছোট পরিমাণ, মূলত নতুনদের এন্ট্রি পয়েন্ট

Weekmotion একটি বাংলাদেশ-কেন্দ্রিক প্ল্যাটফর্ম যেখানে ইউজাররা ভিডিও দেখে, সার্ভে পূরণ করে এবং ব্র্যান্ড ক্যাম্পেইনে অংশ নিয়ে ছোট পরিমাণে আয় করতে পারে। উইথড্র সরাসরি নগদ এবং bKash-এ যায়।

প্ল্যাটফর্মটির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটা সম্পূর্ণ বাংলাদেশের জন্য ডিজাইন করা, ভাষা, কন্টেন্ট এবং পেমেন্ট সিস্টেম সব স্থানীয়।

বাস্তব প্রত্যাশা কী হওয়া উচিত?

এটাকে বড় ইনকামের সোর্স হিসেবে ভাবলে হতাশ হবে। তবে যারা অনলাইন আয়ে একদম নতুন এবং শুধু বুঝতে চাইছে প্রক্রিয়াটা কেমন, তাদের জন্য এটা একটা ঝামেলামুক্ত প্রথম পদক্ষেপ।

৬. YouTube Monetization — দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে শক্তিশালী অপশন

পেমেন্ট পদ্ধতি: AdSense → নগদ বা ব্যাংক
আয়ের ধরন: ভিডিও বিজ্ঞাপন থেকে আয়
কতটুকু বাস্তব আয় সম্ভব: মাসে ৫,০০০ থেকে লক্ষ টাকার বেশি, চ্যানেলের উপর নির্ভরশীল

YouTube-এ ১,০০০ সাবস্ক্রাইবার এবং ৪,০০০ ঘণ্টা ওয়াচ টাইম পূরণ হলে Monetization চালু করা যায়। আয় আসে Google AdSense-এ। সেখান থেকে সরাসরি ব্যাংকে পাঠানো যায়। এবং ব্যাংক থেকে নগদে ট্রান্সফার সম্ভব।

সরাসরি AdSense → নগদ রুট নেই, ব্যাংক ইন্টারমিডিয়ারি হিসেবে আসে। কিন্তু একবার ব্যাংকে আসলে নগদে নিয়ে আসা সহজ।

কেন এটা তালিকায় সেরা অবস্থানে থাকার যোগ্য?

কারণ YouTube-এ বানানো একটি ভালো ভিডিও বছরের পর বছর আয় করতে পারে। এটা প্যাসিভ ইনকামের সবচেয়ে শক্তিশালী উদাহরণ। বাংলাদেশে অনেক YouTuber আছেন যারা শুধু ঘরে বসে ফোনে ভিডিও তুলে মাসে লাখ টাকার বেশি আয় করছেন।

শুরু করতে কী লাগবে?

স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেট, এই দুটো থাকলেই শুরু করা যায়। বিষয় নির্ধারণ করো যেটা তুমি ভালো জানো বা যেটায় মানুষের আগ্রহ আছে। রান্না, কৃষি, প্রযুক্তি, ইসলামিক কন্টেন্ট, কমেডি, বাংলাদেশে সব ক্যাটাগরিতে দর্শক আছে।

৭. Freelancing Platforms — Payoneer হয়ে নগদে আসা সম্ভব

পেমেন্ট পদ্ধতি: Payoneer → নগদ
আয়ের ধরন: স্কিল অনুযায়ী ক্লায়েন্ট থেকে পেমেন্ট
কতটুকু বাস্তব আয় সম্ভব: মাসে ২০,০০০ থেকে কোনো সীমা নেই

Upwork, Fiverr, Freelancer.com, এই প্ল্যাটফর্মগুলো সরাসরি নগদে পেমেন্ট দেয় না। কিন্তু Payoneer ব্যবহার করলে পরোক্ষভাবে নগদে আনা সম্ভব।

নগদ এখনও Payoneer-এর সাথে bKash-এর মতো সরাসরি পার্টনারশিপ করেনি। তাই রুটটা হবে এরকম: Freelancing Platform → Payoneer → ব্যাংক → নগদ। অথবা Payoneer → bKash → নগদে ট্রান্সফার।

এটা একটু ঘুরপথ। কিন্তু যারা ফ্রিল্যান্সিং করেন এবং নগদ ব্যবহার করতে চান, তারা এই পথেই যাচ্ছেন।

সরল পরামর্শ: যদি ফ্রিল্যান্সিং করো, সরাসরি bKash রুটে যাওয়াই এখন সহজ। নগদে আনতে চাইলে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট মাঝখানে রাখো।

নগদে টাকা তোলা যায় এমন Online Income Apps বাংলাদেশ ২০২৬

কোন অ্যাপগুলো এড়িয়ে চলবেন — সৎ সতর্কতা

এটা না বললে আর্টিকেলটা অসম্পূর্ণ।

বাংলাদেশে প্রতি মাসে নতুন “ইনকাম অ্যাপ” আসে যেগুলো দাবি করে, “দিনে ৫০০-১০০০ টাকা আয় করুন, শুধু মোবাইল দেখুন।” এগুলোর বেশিরভাগই MLM মডেলে চলে অথবা একটা নির্দিষ্ট সময় পরে টাকা আটকে রাখে।

কীভাবে চিনবেন ভুয়া অ্যাপ?

যে অ্যাপ যোগ দেওয়ার জন্য বা উইথড্র করার জন্য টাকা চায়, সেটা স্ক্যাম। যে অ্যাপ “রিচার্জ করো, দ্বিগুণ পাও” টাইপের অফার দেয়, সেটা স্ক্যাম। যে অ্যাপের Google Play রেটিং নেই বা ১ তারকার ভরা, সেটা সন্দেহজনক। যে অ্যাপের কোনো পরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নেই পেছনে, সেটায় সময় দেওয়ার আগে ভাবুন।

আসল কথা হলো, কোনো অ্যাপ আপনাকে বিনা কাজে, বিনা দক্ষতায় হাজার টাকা দেবে না। যত বেশি প্রতিশ্রুতি, তত বেশি সন্দেহ করুন।

নগদের ক্যাশ আউট চার্জ — কতটুকু কাটবে?

২০২৬ সালে নগদের চার্জ এরকম:

নগদ অ্যাপ দিয়ে ক্যাশ আউট করলে প্রতি হাজারে প্রায় ১২.৯৯ টাকা + ভ্যাট (মোটামুটি ১.৩০%)। USSD (*167#) দিয়ে করলে চার্জ একটু বেশি।

তুলনায় bKash স্ট্যান্ডার্ড চার্জ ১.৮৫% (প্রতি হাজারে ১৮.৫০ টাকা)। তার মানে নগদে ক্যাশ আউটে প্রতি হাজারে ৫-৬ টাকা বাঁচে। বড় পরিমাণে তুললে এই পার্থক্য অনেক বেশি হয়ে যায়।

দৈনিক ক্যাশ আউট সীমা: ৩০,০০০ টাকা। মাসিক সীমা: ২,০০,০০০ টাকা।

কোন অ্যাপ কোন ধরনের মানুষের জন্য

এক টেবিলে পুরো ছবিটা:

অ্যাপকাজের ধরননগদে পেমেন্টমাসিক সম্ভাব্য আয়কার জন্য
Daraz Affiliateলিংক শেয়ার, কমিশনহ্যাঁ (সরাসরি)২,০০০–২০,০০০+সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী
ShopUp Resellerপণ্য বিক্রিহ্যাঁ (সরাসরি)৫,০০০–৩০,০০০+নেটওয়ার্ক বেশি যাদের
Pathaoরাইড/ডেলিভারিহ্যাঁ (সরাসরি)১৫,০০০–৩০,০০০মোটরসাইকেল আছে যাদের
BanglaTaskমাইক্রো-টাস্কহ্যাঁ (সরাসরি)২০০–১,০০০/দিনএকদম নতুনদের শুরু
Weekmotionভিডিও, সার্ভেহ্যাঁ (সরাসরি)সামান্যপ্রথম পদক্ষেপ
YouTubeভিডিও কন্টেন্টপরোক্ষ (ব্যাংক হয়ে)৫,০০০–লক্ষের বেশিদীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
Freelancingস্কিল-ভিত্তিকপরোক্ষ (Payoneer হয়ে)সীমা নেইদক্ষ ব্যক্তিরা

প্রায়শই জিজ্ঞাসা করা প্রশ্ন (FAQ)

নগদে কি সরাসরি অনলাইন ইনকাম আসে?
কিছু অ্যাপ (Daraz Affiliate, ShopUp, Pathao, BanglaTask) সরাসরি নগদ নম্বরে পেমেন্ট পাঠায়। Freelancing বা YouTube-এর ক্ষেত্রে ব্যাংক বা Payoneer মাঝখানে থাকে।

নগদে ক্যাশ আউট চার্জ কত ২০২৬ সালে?
নগদ অ্যাপ থেকে প্রতি হাজারে প্রায় ১২.৯৯ টাকা + ভ্যাট, যা bKash-এর চেয়ে কম।

Daraz Affiliate-এ কি সত্যিই আয় হয়?
হ্যাঁ, তবে ট্র্যাফিক সোর্স থাকতে হবে। Facebook Page, YouTube বা ব্লগ ছাড়া আয় অনেক কম হবে।

BanglaTask কি বিশ্বাসযোগ্য?
মাইক্রো-টাস্ক সাইটগুলো সাধারণত পেমেন্ট দেয়, কিন্তু আয় সীমিত। বড় বিনিয়োগ বা প্রচুর সময় দেওয়ার আগে নিজে ছোট পরিমাণে পরীক্ষা করুন।

মোবাইলে বসে নগদে সবচেয়ে বেশি আয় কোথায় সম্ভব?
দীর্ঘমেয়াদে YouTube বা ফ্রিল্যান্সিং। স্বল্পমেয়াদে ShopUp বা Pathao (মোটরসাইকেল থাকলে)।

নগদে কোনো আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং পেমেন্ট আসে কি?
এখনও নগদের Payoneer-এর মতো সরাসরি আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ইন্টিগ্রেশন নেই। ফ্রিল্যান্সিং আয় Payoneer বা ব্যাংকে আনার পর নগদে ট্রান্সফার করা যায়।

ভুয়া ইনকাম অ্যাপ কীভাবে চিনব?
যে অ্যাপ যোগ দিতে বা তুলতে টাকা চায়, অবাস্তব আয়ের প্রতিশ্রুতি দেয়, বা Play Store-এ রেটিং নেই, সেগুলো থেকে দূরে থাকুন।

শেষ কথা: নগদ একটা সুবিধা, কিন্তু আয় আসে কাজ থেকে

নগদ সস্তায় এবং দ্রুত টাকা হাতে নিতে সাহায্য করবে। কিন্তু আয়টা করতে হবে আপনাকেই।

বাংলাদেশে অনলাইন আয়ের সুযোগ সত্যিকারের এবং ক্রমেই বাড়ছে। Daraz-এর মতো দেশীয় প্ল্যাটফর্ম নগদের সাথে পার্টনারশিপ করছে। Pathao এবং ShopUp লক্ষ লক্ষ মানুষকে উপার্জনের সুযোগ দিচ্ছে। YouTube বাংলাদেশের কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের বিশ্বের দর্শকের সামনে নিয়ে যাচ্ছে।

Back to top button
error: