
ছয় মাস পূর্ণ হলে শুধু বুকের দুধ আর যথেষ্ট থাকে না। এই সময় থেকে বাচ্চাকে অল্প অল্প করে নরম খাবার খাওয়ানো শুরু করতে হয়, আর বুকের দুধও চালিয়ে যেতে হয়। নিচে ৬ মাসের বাচ্চার খাবার তালিকা ধাপে ধাপে দেওয়া হলো, কী খাওয়াবেন, কতটুকু খাওয়াবেন, আর কোন খাবার এখন দেবেন না।
৬ মাসের বাচ্চার খাবার তালিকা এক নজরে
প্রথম দিকে দিনে এক থেকে দুইবার, খুব অল্প পরিমাণে (এক-দুই চামচ) শুরু করুন। ধীরে ধীরে পরিমাণ ও বার বাড়বে।
| সময় | খাবার | পরিমাণ |
|---|---|---|
| সকাল | বুকের দুধ | চাহিদা অনুযায়ী |
| সকালের নাস্তা | নরম সুজি বা চালের নরম খিচুড়ি | ২-৩ চামচ থেকে শুরু |
| দুপুর | চটকানো ভাত-ডাল-সবজি | ২-৪ চামচ |
| বিকাল | চটকানো পাকা কলা বা মৌসুমি ফল | ২-৩ চামচ |
| সন্ধ্যা/রাত | বুকের দুধ | চাহিদা অনুযায়ী |
শুরুর দিকে পরিমাণ নিয়ে চিন্তা করবেন না। বাচ্চা স্বাদ ও গেলার অভ্যাস করছে, তাই অল্প খেলেও সমস্যা নেই। বুকের দুধই এখনো প্রধান খাবার।
কীভাবে প্রথম খাবার শুরু করবেন
ছয় মাসের বাচ্চার খাবার তালিকা শুরু করার সময় একটা করে নতুন খাবার দিন, একসাথে অনেক কিছু নয়। একটা নতুন খাবার দিয়ে তিন দিন অপেক্ষা করুন। এতে কোনো খাবারে অ্যালার্জি হচ্ছে কিনা বুঝতে পারবেন। খাবার হবে নরম, চটকানো বা পাতলা, যেন সহজে গিলতে পারে।
প্রথম কয়েক দিনের জন্য ভালো খাবার:
- চালের নরম সুজি বা পাতলা খিচুড়ি
- ভালো করে সেদ্ধ করে চটকানো ভাত-ডাল
- চটকানো পাকা কলা
- সেদ্ধ করে চটকানো আলু, মিষ্টি কুমড়া বা গাজর
- ডিমের কুসুম ভালো করে সেদ্ধ করে অল্প অল্প
বাচ্চা খেতে না চাইলে যা করবেন! বাচ্চা খেতে চায় না কেন ?
৬ মাসের বাচ্চার জন্য ভালো খাবার
এই বয়সে পুষ্টির জন্য আয়রন খুব জরুরি। তাই ডাল, ডিমের কুসুম, আর সবজি রাখুন। সঙ্গে শক্তির জন্য চাল, আলু, তেল অল্প পরিমাণে দিতে পারেন।
- শর্করা: নরম ভাত, খিচুড়ি, সুজি, আলু
- আমিষ: ডাল, ভালো করে সেদ্ধ ডিমের কুসুম, পরে মাছ-মাংস চটকিয়ে
- ভিটামিন: চটকানো পাকা ফল ও সেদ্ধ সবজি
- ভালো চর্বি: রান্নায় অল্প তেল বা ঘি
খাবার রান্নার সময় কয়েকটা জিনিস মাথায় রাখুন। নরম করে রান্না করুন, ভালো করে চটকান, আর গরম না, হালকা কুসুম গরম করে দিন।
এখন যেসব খাবার দেবেন না
কিছু খাবার ৬ মাসের বাচ্চার জন্য ঠিক নয়। এগুলো এড়িয়ে চলুন:
- লবণ ও চিনি আলাদা করে দেবেন না। বাচ্চার কিডনির জন্য লবণ ক্ষতিকর।
- গরুর দুধ এখনো প্রধান পানীয় হিসেবে নয়। রান্নায় সামান্য ব্যবহার করা গেলেও পান করানোর দুধ হিসেবে এক বছরের আগে নয়।
- মধু এক বছরের আগে একদম নয়। এতে শিশুর জন্য বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে।
- আস্ত বাদাম, আঙুর, শক্ত টুকরা, কারণ গলায় আটকে যেতে পারে।
- প্যাকেটজাত জুস, কোমল পানীয়, আর বাইরের ভাজাপোড়া খাবার।
বাস্তব কিছু টিপস
- ধৈর্য ধরুন। নতুন খাবার বাচ্চা প্রথমে মুখ থেকে ফেলে দিতে পারে। কয়েকবার দিলে অভ্যাস হয়ে যায়।
- প্রতিবার নতুন খাবারের পর তিন দিন লক্ষ্য রাখুন, র্যাশ, পাতলা পায়খানা বা বমি হচ্ছে কিনা।
- পরিষ্কার হাতে, পরিষ্কার বাসনে খাবার তৈরি করুন। এই বয়সে পেটের অসুখ সহজে হয়।
- জোর করে খাওয়াবেন না। বাচ্চা মুখ ঘুরিয়ে নিলে বুঝবেন পেট ভরেছে।
- বুকের দুধ চালিয়ে যান। খাবার বুকের দুধের বিকল্প নয়, বাড়তি।

সাধারণ কিছু প্রশ্ন
৬ মাসের বাচ্চাকে দিনে কতবার খাওয়াব?
শুরুতে দিনে এক থেকে দুইবার অল্প পরিমাণে খাওয়ান। বাচ্চা অভ্যস্ত হলে ধীরে ধীরে দিনে দুই থেকে তিনবার করুন। সঙ্গে বুকের দুধ চাহিদামতো চলবে। পরিমাণের চেয়ে অভ্যাস তৈরি করাটাই এখন বেশি জরুরি।
৬ মাসে কি ডিম দেওয়া যায়?
হ্যাঁ, ডিমের কুসুম ভালো করে সেদ্ধ করে অল্প অল্প দেওয়া যায়। এটি আয়রন ও পুষ্টির ভালো উৎস। প্রথমবার দিয়ে তিন দিন লক্ষ্য রাখুন কোনো অ্যালার্জি হয় কিনা।
লবণ ও চিনি কি দেওয়া যাবে?
না। ৬ মাসের বাচ্চার খাবারে আলাদা লবণ বা চিনি দেবেন না। খাবারে প্রাকৃতিকভাবে থাকা স্বাদই যথেষ্ট। লবণ শিশুর কিডনির ওপর চাপ ফেলে, আর চিনির অভ্যাস পরে দাঁত ও ওজনের সমস্যা করে।
বাচ্চা খেতে না চাইলে কী করব?
জোর করবেন না। নতুন খাবার কয়েকবার দিলে বাচ্চা অভ্যস্ত হয়। স্বাদ বদলে দেখুন, খাবার আরও নরম করুন, আর খাওয়ানোর সময় বাচ্চা যেন আরাম করে বসে থাকে তা দেখুন। কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে, এটা স্বাভাবিক।



