
আমাদের এই আর্টিকেলটিতে মেয়েদের বিয়ের লিস্ট- biyer list ও বিয়ের কসমেটিকস তালিকা গুলো আপনাদের মাঝে প্রকাশ করব। অনেকে আছেন যারা ছেলেমেয়েদের বিয়ের সময় কি কিনবেন তা ভেবে পান না। দেখা যায় একটা জিনিস কিনলে আরেকটা জিনিস বাদ পড়ে আবার ওই জিনিসটা কেনার জন্য বাজারে যেতে হোয় কিংবা অনলাইনে অর্ডার করতে হয়। তাই তাদের কথা চিন্তা করে আমরা আমাদের এই আর্টিকেলটিতে মেয়েদের বিয়ের লিস্ট ও বিয়ের কসমেটিক এর একটি তালিকা তুলে ধরেছি।
বিয়ের কেনাকাটায় সবচেয়ে বেশি ঝামেলা হয় তালিকা নিয়ে। কেউ গুছিয়ে লিস্ট করে না, শেষ মুহূর্তে মনে পড়ে চিরুনি, সেফটিপিন বা মেকআপ রিমুভার কেনা হয়নি। আবার কেউ ইন্টারনেট থেকে ৭০ আইটেমের লম্বা লিস্ট নামিয়ে সবকিছু কিনে ফেলে, অথচ তার অর্ধেক কখনো ব্যবহারই হয় না।
এই লেখায় কনের কেনাকাটা পুরো গুছিয়ে দিয়েছি। কসমেটিকস, স্কিনকেয়ার, চুল, মেহেদি-আলতা, পোশাক, গয়না, ব্যাগ, ডালা ও বাসরের জিনিস আলাদা ভাগে আছে। সঙ্গে আছে কী অবশ্যই লাগবে আর কী বাদ দেওয়া যায়, কত আগে থেকে কী কিনবেন, নিরাপদ কেনাকাটার নিয়ম, আর কনের জন্য একটা ইমার্জেন্সি কিটের তালিকা। লেখাটা কনে, তাঁর মা-বোন-বন্ধু এবং বরপক্ষের যাঁরা কনের কসমেটিকস কেনেন, সবার জন্য।
একটা কথা আগে বলে রাখি। এই তালিকা সবার জন্য একই নয়। পরিবার, অঞ্চল, ধর্ম ও অনুষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী রীতি আলাদা, আর কে কী কিনবে সেটাও পরিবারভেদে বদলায়। আমি কোনো দাম দিইনি, কারণ দাম ব্র্যান্ড ও সময়ের ওপর বদলায় এবং আমি তা যাচাই করতে পারিনি। তালিকাটাকে নিজের মতো কাটছাঁট করে ব্যবহার করুন।
মেয়ের বিয়ের বাজার লিস্ট দাম – biyer list, কনের বিয়ের কেনাকাটার তালিকা বাংলা, মেয়েদের বিয়ের লিস্ট, ছেলেদের বিয়ের কসমেটিক, হিন্দু বিয়ের বরের বাজার লিস্ট, বিয়ের বাজার লিস্ট, ছেলেদের বিয়ের বাজার লিস্ট, কনের জন্য বিয়ের বাজার লিস্ট, বিয়ের বাজার লিস্ট দাম।
এক নজরে উত্তর
| বিভাগ | অবশ্যই লাগবে | থাকলে ভালো |
|---|---|---|
| মেকআপ | ফাউন্ডেশন, কনসিলার, কম্প্যাক্ট, লিপস্টিক, কাজল, আইলাইনার, মাশকারা | হাইলাইটার, কন্টুর, সেটিং স্প্রে |
| স্কিন ও বডি | ফেসওয়াশ, ময়েশ্চারাইজার, সানস্ক্রিন, বডি লোশন | ফেসপ্যাক, লিপ বাম |
| চুল | শ্যাম্পু, কন্ডিশনার, তেল, চিরুনি, কাঁটা, ববি পিন | হেয়ার স্প্রে, ড্রায়ার, স্ট্রেইটনার |
| হাত-পা | নেইল পলিশ ও রিমুভার, নেইল কাটার, মেহেদি, আলতা | ম্যানি-পেডি সেট |
| ব্যক্তিগত যত্ন | টুথপেস্ট, ব্রাশ, সাবান, ডিওডরেন্ট | পারফিউম, বডি স্প্রে |
| টুকিটাকি | টিপ, সেফটিপিন, রুমাল, তোয়ালে | রাখি, কাপড়ের ফুল |
| পোশাক | বিয়ের শাড়ি, হলুদের পোশাক, বউভাতের পোশাক, রোজকার পোশাক | লেহেঙ্গা |
| ব্যাগ | ট্রলি ব্যাগ, ভ্যানিটি ব্যাগ | পার্টি ব্যাগ |
সবচেয়ে বড় পরামর্শ: কেনার আগে মেকআপ আর্টিস্টকে জিজ্ঞেস করুন তিনি নিজে কী কী নিয়ে আসবেন। অনেক আর্টিস্ট নিজের প্রফেশনাল কিট ব্যবহার করেন, তাই প্রতিটি আইটেম নিজে কিনলে টাকা অপচয় হতে পারে।
বিয়ের ছবি, বিয়ের পিক, বিয়ের সাজ, স্টাইলিষ্ট বউ সাজ
কেনাকাটা শুরুর আগে তিনটি নিয়ম
১. সবকিছুকে তিন ভাগে ভাগ করুন। অবশ্যই লাগবে, থাকলে ভালো, আর বাদ দেওয়া যায়। প্রথম ভাগে টাকা খরচ করুন আগে। তৃতীয় ভাগের জিনিস বাজেট বাঁচলে কিনুন।
২. নতুন কোনো প্রসাধনী বিয়ের দিনের জন্য প্রথমবার কিনবেন না। যে ফাউন্ডেশন বা ফেসপ্যাক আগে ব্যবহার করেননি, তা বিয়ের দিনে প্রথম লাগালে অ্যালার্জি বা ফুসকুড়ি হতে পারে। বিয়ের অন্তত এক মাস আগে সবকিছু একবার ব্যবহার করে দেখুন।
৩. একজনকে দায়িত্ব দিন। দুই-তিনজন আলাদা আলাদা কিনলে একই জিনিস দুবার আসে, আর কিছু বাদ পড়ে। একটা শেয়ার করা তালিকায় কে কী কিনেছে লিখে রাখুন।
কত আগে থেকে কী করবেন
| সময় | করণীয় |
|---|---|
| তিন মাস আগে | স্কিনকেয়ার রুটিন ঠিক করুন, ত্বকের সমস্যা থাকলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যান, মেকআপ আর্টিস্ট ঠিক করুন |
| দুই মাস আগে | পোশাক ও গয়না কিনুন বা অর্ডার দিন, ব্লাউজ বানাতে দিন |
| এক মাস আগে | প্রসাধনী কেনা শুরু করুন, ট্রায়াল মেকআপ করান, নতুন জুতা কিনে কয়েকদিন পায়ে দিন |
| দুই সপ্তাহ আগে | বাকি টুকিটাকি কিনুন, ব্যাগ গোছানো শুরু করুন |
| এক সপ্তাহ আগে | নতুন কোনো জিনিস ব্যবহার বন্ধ রাখুন, ঘুম ও পানি পান ঠিক রাখুন |
| বিয়ের দুই-তিন দিন আগে | ওয়াক্সিং বা হেয়ার রিমুভাল, নখ পরিষ্কার |
| আগের দিন | মেহেদি, ব্যাগ চূড়ান্ত গোছানো, সকালের জন্য জিনিস আলাদা করে রাখা |
মেয়েদের বিয়ের লিস্ট বা বিয়ের জিনিসপত্র তালিকা
বিয়ের কসমেটিকস এর তালিকা
অনেকে আছে যারা বিয়ের কসমেটিকস এর তালিকা সম্পর্কে অনলাইন সন্ধান করে যান। আমাদের আজকের এই পোস্ট থেকে বিয়ের কসমেটিকের তালিকা সংগ্রহ করতে পারবেন। আমরা আমাদের এই আর্টিকেলটিতে বিয়ের কসমেটিক্স এর তালিকা। আপনাদের আর মাথা ঘামানোর কোন দরকার হবে না আপনারা আমাদের এই তালিকাটিতে বিয়ের কসমেটিকস তালিকা বা বিয়ের জিনিসপত্র পেয়ে যাবেন। নিচে তালিকা টি দেওয়া হলো-
মেকাপের জিনিসপত্র
বিয়েতে কণের জন্য সব ধরনের মেকআপ কিনতে হয় এবং ভালো করে দেখে শুনে চিন্তা ভাবনা করে মেকাপের জিনিসপত্র কিনতে হয়। বিয়ের সময় কণেকে যেসব মেকআপ দিয়ে সাজানো হবে তার প্রায় সবই কিনতে হয়। পুরো মুখের সাজগোজের জন্য মেকআপ কিনতে হয়। যেমন:
- লিপস্টিক: শাড়ির সাথে মিল রেখে লিপস্টিক কেনা উচিত।
- লিপ লাইনার: লিপস্টিকের সাথে মালিক হওয়া উচিত।
- ফেস পাউডার, ফাউন্ডেশন এবং কনসিলার:
- টিপ: শাড়ির সাথে সমন্বয় টিপ নিতে হবে।
- মেকআপ বক্স: একটি কিনলে যথেষ্ট।
- নেইলপলিশ: শাড়ির সাথে মিল হওয়া উচিত।
- মাসকারা: কালো রঙের মাশকারা একটি কিনলে যথেষ্ট।
- আইশ্যাডো প্যালেট: বিভিন্ন কালার এমন একটি আইশ্যাডো প্যালেট কেনা উচিত।
- আইলাইনার: যেকোনো সাইজের একটি কিনলেই যথেষ্ট।
- ভ্রু পেন্সিল: কালো রঙের আইব্রো পেন্সিল কিনতে হবে।
- কাজল: একটি পেন্সিল কিনলে যথেষ্ট।
মুখের মেকআপ
| আইটেম | কেন লাগে | টিপস |
|---|---|---|
| প্রাইমার | মেকআপ ভালোভাবে বসায় | ত্বকের ধরন (তৈলাক্ত, শুষ্ক) অনুযায়ী নিন |
| ফাউন্ডেশন | ত্বকের রং সমান করে | ফর্সা দেখানোর জন্য কয়েক শেড ফর্সা নেবেন না, নিজের ত্বকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে নিন |
| কনসিলার | দাগ ও কালচে ভাব ঢাকে | ফাউন্ডেশনের চেয়ে এক শেড হালকা |
| কম্প্যাক্ট বা ফেস পাউডার | মেকআপ সেট করে | ছোট একটি সঙ্গে রাখুন টাচআপের জন্য |
| ব্লাশ | গালে রং দেয় | শাড়ির সঙ্গে মানানসই |
| হাইলাইটার ও কন্টুর | মুখের গড়ন ফোটায় | ঐচ্ছিক, আর্টিস্ট সঙ্গে আনলে আলাদা কেনার দরকার নেই |
| সেটিং স্প্রে | মেকআপ ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে রাখে | গরম ও ঘামের দিনে বেশি কাজের |
বিয়ের আগে ত্বক উজ্জ্বল করতে যা করবেন
চুল সৌন্দর্য চর্চা করার জিনিসপত্র
শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার, নারকেল বা বাদামের তেল, হেয়ার সেটিং স্প্রে বা জেল, চিরুনি, ববি পিন, কাঁটা, ক্লিপ, রাবার ব্যান্ড, খোপা বা আর্টিফিশিয়াল বান (যদি ব্যবহার করেন), হেয়ার ড্রায়ার, স্ট্রেইটনার বা কার্লার। বিয়ের দিনের আগে চুলে হিট বা রাসায়নিক ট্রিটমেন্ট সীমিত রাখুন।
কণের জন্য আলাদাভাবে চুল সৌন্দর্য চর্চা করার জিনিসপত্র কিনতে হয় বিয়ের সময়। চুলের যত্ন নেওয়ার প্রায় সব জিনিস কিনতে হয়। যেমন,
- শ্যাম্পু: যেকোনো একটি ভালো কোম্পানির শ্যাম্পু যা আপনার চুলের সাথে মানানসই তা কিনতে হবে।
- কন্ডিশনার: শ্যাম্পুর সাথে জোট কন্ডিশনার কিনতে হবে।
- নারকেল তেল/ চুলের তেল: যে কোনো ধরনের তেল কিনতে হবে।
- চিরুনি: চুলের আঁচড়ানোর জন্য কিনতে হবে।
- চুল বাড়ানো: বিয়ের সময় চুল সাজানোর জন্য আলগা খোপা বা হেয়ার এক্সটেনশন কিনতে হবে।
- হেয়ার স্প্রে: একটি কিনলে যথেষ্ট।
- হেয়ার ড্রায়ার
- চুলের জন্য কাপড়ের ফুল
- হেয়ার ক্লিপ
- হেয়ার স্ট্রেটনার
পার্সোনাল কেয়ার পণ্য
প্রতিদিন ব্যবহার করার মত পার্সোনাল কেয়ার পণ্য কিনতে হবে। এগুলি কেনার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন পণ্যগুলো যেন ভাল কোম্পানির হয়।
- টোনার
- মেকাপ রিমুভার কটন
- সাবান এবং সাবানের কেস: আপনাকে একটি ভাল কোম্পানি সাবান কিনতে হবে এবং সেই সাবানের জন্য একটি সাবানের কেস কিনতে হবে।
- ট্যালকম এবং পাউডার কেস: আপনাকে একটি ট্যালকম পাউডার কিনতে হবে এবং পাউডারের জন্য পাউডার কেস ও নিতে হবে।
- টুথপেস্ট এবং টুথব্রাশ: যেকোনো একটি ভালো ব্র্যান্ডের টুথপেস্ট কিনতে হবে এবং তার সাথে ব্যবহার করার জন্য একটি টুথব্রাশ কিনতে হবে।
- বডি লোশন: যেকোনো একটি ভালো ব্র্যান্ডের বডি লোশন নিতে হবে।
- বডি স্প্রে: ভালো ব্র্যান্ডের একটি কিনলে যথেষ্ট।
- সুগন্ধি: ভালো সুভাষের একটি পারফিউম কিনলেই যথেষ্ট।
- ময়েশ্চারাইজার এবং টোনার: ভালো ব্র্যান্ডের মশ্চার প্রযুক্তি এবং টোনার ব্যবহার করতে হবে এবং একটি কিনলে যথেষ্ট।
- অলিভ অয়েল, মেকআপ রিমুভার: মেকআপ রিমুভ করার জন্য মেকআপ রিমুভার অথবা অলিভ অয়েল কিনতে হবে।
- মেকআপ রিমুভার তুলা: মেকআপ রিমুভ করার জন্য তুলা কিনতে হবে।
- শাওয়ার জেল: ভালো ব্র্যান্ডের বডি জেল কিনতে হবে।
- সানস্ক্রিন বডি লোশন: সানস্ক্রিন ক্রিম কিনতে হবে।
- ফেসওয়াশ: ভালো ব্র্যান্ডের ফেসওয়াশ নিতে হবে।
- ফেস ক্রিম: আপনার ফেইস ওয়াশ এর সাথে আপনি ফ্রেশ ক্রিম কিনতে পারেন একই ব্র্যান্ডের।
- লিপ জেল: ভালো ব্র্যান্ডের একটি কিনলে যথেষ্ট।
- মাউথওয়াশ: টুথপেস্ট এবং টুথব্রাশ এর সাথে একটি মাউথওয়াশ কিনলে ভালো হয়।
- ফেসপ্যাক: এখন মানুষ ফেসপ্যাক ব্যবহার করে তাই ফেইস প্যাক কিনলে ভালো হয়।
বিয়ে নিয়ে স্ট্যাটাস, বিয়ের শুভেচ্ছা স্ট্যাটাস, উক্তি
চোখ ও ভ্রু
আইব্রো পেনসিল বা জেল, আইশ্যাডো প্যালেট, আইলাইনার (কালো ছাড়াও সুবিধামতো রং), কাজল (কালো ও নুড), মাশকারা এবং প্রয়োজনে আইল্যাশ ও আইল্যাশ গ্লু। কন্টাক্ট লেন্স পরলে নিজের পরিচিত ব্র্যান্ড ব্যবহার করুন এবং বিয়ের দিনে নতুন লেন্স প্রথমবার পরবেন না। অনেক ক্ষেত্রে আর্টিস্টরা ঝুঁকি এড়াতে লেন্স না পরার পরামর্শ দেন।
ঠোঁট
লিপস্টিক বা তরল লিপস্টিক (শাড়ির সঙ্গে মানিয়ে অন্তত দুটি রং, একটি গাঢ় আর একটি হালকা), লিপ লাইনার, লিপ গ্লস এবং লিপ বাম। শুষ্ক ঠোঁটের জন্য বিয়ের কয়েকদিন আগে থেকে লিপ বাম ব্যবহার করুন, তাহলে লিপস্টিক ভালো বসে।
নখ
নেইল পলিশ (শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে একটি, আর একটি নিউট্রাল), বেস কোট ও টপ কোট, রিমুভার, নেইল কাটার ও ফাইলার। ম্যানি-পেডি সেট থাকলে বিয়ের দুই-তিন দিন আগে করান।
স্কিনকেয়ার ও বডি কেয়ার
ফেসওয়াশ, ময়েশ্চারাইজার, সানস্ক্রিন (রোদে বের হলে বা মেকআপের আগে), ফেসপ্যাক (পরিচিত ধরনেরটা), বডি লোশন ও ঠোঁটের বাম। রাতে মেকআপ তুলতে মেকআপ রিমুভার ও কটন প্যাড লাগবে। বডি স্ক্রাব, বডি ওয়াশ ও সাবান দৈনন্দিনের জন্য।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: বিয়ের এক সপ্তাহ আগে কোনো নতুন ফেসিয়াল, পিল বা শক্তিশালী ট্রিটমেন্ট করবেন না। ত্বক লাল হওয়া বা খোসা ওঠার ঝুঁকি থাকে। ত্বকের সমস্যা থাকলে অবশ্যই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
মেহেদি, আলতা ও হাতের সাজ
মেহেদি টিউব বা কোন, গ্লিটার, আলতা, চুড়ি (কাঁচের ও সিটি গোল্ডের), মেহেদি ডিজাইনের জন্য একজন কারিগর ঠিক করুন।
কালো মেহেদি থেকে সাবধান। বাজারে “ব্ল্যাক হেনা” নামে যা বিক্রি হয়, তাতে অনেক সময় পিপিডি (PPD) নামক রাসায়নিক থাকে, যা ত্বকে মারাত্মক অ্যালার্জি ও পোড়া দাগ ফেলতে পারে। প্রাকৃতিক মেহেদি সাধারণত বাদামি থেকে লালচে রং দেয়। সন্দেহ হলে কেনার আগে বা লাগানোর আগে হাতের ছোট জায়গায় পরীক্ষা করুন, আর হাতে জ্বালা বা ফোলা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ধুয়ে ফেলে ডাক্তারের কাছে যান।
উপরে উল্লেখিত বিয়ের জিনিসপত্র তালিকা বা বিয়ের কসমেটিকস এর তালিকা কোন ব্রান্ডের তা উল্লেখ করা হোয় নাই কারণ, একেক জনের ত্বকে একেক ব্রান্ডের কসমেটিক্স উপযোগী। তাই, নিজের ত্বকের সাথে মানানসই এবং পছন্দ অনুযায়ী ব্রান্ড নির্বাচন করুন। আর বাজারে অনেক ভেজাল কসমেটিক্স পাওয়া যায় তাই কসমেটিক্স কেনার সময় অবশ্যই সাবধান থাকবেন।
ব্যক্তিগত যত্ন
টুথপেস্ট, টুথব্রাশ, মাউথওয়াশ, সাবান ও সাবান দানি, শেভিং বা হেয়ার রিমুভাল ক্রিম, ডিওডরেন্ট, বডি স্প্রে বা পারফিউম, নেইল কাটার, ফেসিয়াল টিস্যু, পেট্রোলিয়াম জেলি এবং তোয়ালে। অন্তর্বাস, মোজা ও রুমাল পর্যাপ্ত পরিমাণে নিন।
ঋতুচক্র সংক্রান্ত প্রয়োজনের জন্য স্যানিটারি প্যাড বা পছন্দের পণ্য ব্যাগে রাখুন। বিয়ের তারিখ ঠিক করার সময় অনেকে এ বিষয়টি ভুলে যান।
টুকিটাকি সাজের জিনিস
টিপ (ছোট ও বড়), কুমকুম টিপ, সোনালি ও রুপালি সেফটিপিন, রাখি (সিলভার ও গোল্ডেন), কাপড়ের ফুল বা চুলের মালা, ওড়না, আয়না, রুমাল ও গয়নার ছোট ব্যাগ। সেফটিপিন ও ছোট সেলাই কিট ব্যাগে রাখুন, শাড়ির পিন বা ব্লাউজের হুক ছিঁড়ে গেলে কাজে আসে।
পোশাক
বিয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস কাপড় কেনার সময় সতর্ক থাকতে হবে এবং তালিকায় বিয়ের জিনিস লিখে নিয়ে যেতে হবে বাজার করতে।
- শাড়ি: বেনারসি, জামদানি, হলুদের শাড়ি, বৌভাতের শাড়ি ও সুতি শাড়ি কিনতে হবে।
- লেহেঙ্গা: শাড়ি না পরতে চাইলে বিয়ের দিন লেহেঙ্গা পরতে পারেন।
- সালোয়ার কামিজ: ২- ৩ টি সালোয়ার কামিজ।
- নাইট গাউন: একটি নাইট গাউন।
- ব্লাউজ: সব শাড়ির সাথে মিলিয়ে ব্লাউজ।
- পেটিকোট: সব শাড়ির সাথে মিলিয়ে পেটিকোট।
বিয়ের পোশাক ঢাকার কোথায় পাওয়া যায়?
- বিয়ের শাড়ি বা লেহেঙ্গা পাবেন যমুনা ফিউচার পার্ক, বনানী, গুলশান ও মিরপুর বেনারসি পল্লীতে।
- নিউমার্কেট, চাঁদনি চক, ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটেও বিভিন্ন দামের শাড়ি কিনতে পারবেন।
- এ ছাড়া যেতে পারেন মৌচাক, এলিফ্যান্ট রোড, হাতিরপুলের মার্কেটগুলো ।
- আড়ং, লুবনান, বাংলার মেলা, ইনফিনিটি, রং, অঞ্জন’স, কে-ক্র্যাফটের মতো ফ্যাশন হাউসগুলোয়ও পাবেন বিয়ের পোশাক।
- বেনারসি শাড়ি কিনতে পারবেন জায়গাভেদে ৫ হাজার-৫০ হাজার টাকায়।
- আর লেহেঙ্গা কিনতে গুনতে হবে ৮ হাজার-৪০ হাজার টাকা।
পোশাক: অনুষ্ঠান অনুযায়ী
| অনুষ্ঠান | সাধারণ পছন্দ | মনে রাখবেন |
|---|---|---|
| গায়ে হলুদ | হলুদ বা উজ্জ্বল রঙের শাড়ি বা পোশাক | ফুলের গয়না, ওড়না। হলুদ লাগার কথা মাথায় রেখে সহজে ধোয়া যায় এমন কাপড় |
| বিয়ে | বেনারসি, কাতান বা লেহেঙ্গা | ওজন ও আরাম দেখুন, দীর্ঘক্ষণ পরতে হবে |
| বউভাত | জামদানি বা অন্য শাড়ি | বিয়ের শাড়ি থেকে আলাদা রং |
| বউ বিদায় | হালকা ও আরামদায়ক পোশাক | ভ্রমণের সুবিধা |
| বাসর | আরামদায়ক রাতের পোশাক | ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী |
| বিয়ের পরের দিনগুলো | সুতি শাড়ি (২টি), সালোয়ার কামিজ (২-৩ সেট), নাইট গাউন | রোজকার ব্যবহারের জন্য |
প্রতিটি শাড়ির সঙ্গে মানানসই ব্লাউজ ও পেটিকোট নিন, আর ব্লাউজের মাপ বিয়ের আগে দুবার পরখ করুন। অনেকে ট্রায়াল ছাড়াই ব্লাউজ বানিয়ে শেষ মুহূর্তে বিপদে পড়েন। পোশাক কেনার সময় ওড়না, ঘড়ি, নাকের নথ ও স্যান্ডেল মিলিয়ে ভাবুন।
জুতা, গয়না ও ঘড়ি
বিয়ের জুতা কিনে অন্তত দু-তিন দিন ঘরে পরে দেখুন। নতুন জুতায় বিয়ের দিনে ফোসকা পড়া খুব সাধারণ সমস্যা। ঘরে পরার জন্য একজোড়া নরম স্যান্ডেল রাখুন। গয়নার মধ্যে নেকলেস বা মালা, কানের দুল, চুড়ি, নাকফুল বা নথ ও আংটি। দামি গয়না বিয়ের অনুষ্ঠানে কে সামলাবে, তা আগে ঠিক করুন।
ব্যাগ ও ভ্রমণের জিনিস
ট্রলি ব্যাগ (বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার জন্য), ভ্যানিটি ব্যাগ (প্রসাধনীর জন্য), পার্টি ব্যাগ বা পার্স এবং গয়নার ব্যাগ। প্রতিটি ব্যাগের ভেতরে কী আছে, তার একটি ছোট তালিকা ভেতরে রাখুন, তাহলে খুঁজতে সুবিধা হয়।
কনের ইমার্জেন্সি কিট
বিয়ের দিন ছোট একটি ব্যাগে রাখুন: সেফটিপিন, বাড়তি ববি পিন, ছোট আয়না, রুমাল ও টিস্যু, লিপস্টিক ও কম্প্যাক্ট (টাচআপের জন্য), ব্যথানাশক বা জরুরি ওষুধ (যা আপনি নিয়মিত খান), ওআরএস, খাবার পানি ও শুকনো খাবার, ফোন চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক, ছোট সেলাই কিট, স্যানিটারি প্যাড ও বাড়তি মোজা। অনেক কনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সাজে কিছু না খেয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েন, তাই পানি ও হালকা খাবার জরুরি।
বিয়ের প্রয়োজনিয় জিনিসপত্র
বিয়ের সময় অন্য আরও অনেক ধরনের জিনিসপত্র কিনতে হয়। যেমন,
- আত্মীয়-স্বজন ও পরিবারবর্গের জন্য পোষাক
- টাওয়েল এবং রুমাল: প্রতিদিন ব্যবহারের জন্য কিনতে হবে।
- সেফটিপিন: সেফটিপিন বেশি করে কিনতে হবে।
- চুড়ি: কাচের বা সিটি গোল্ডের চুরি কিনতে হবে।
- নোস পিন: সিটি গোল্ডের একটি নাক ফুল কিনতে হবে।
- হেয়ার স্ট্রেইটনার এবং হেয়ার ড্রায়ার: চুলের হেয়ার স্ট্রেইটনার এবং হেয়ার ড্রায়ার কিনতে হবে।
- নেইলকাটার: হাতের নখ কাটার জন্য কিনতে হবে।
- অলংকার বক্স: বিভিন্ন ধরনের সিটি গোল্ডের অলংকার বা সেট কিনতে হবে এবং তার সাথে একটি অলংকার বক্স কিনতে হবে।
- হাত ঘড়ি: একটি হাত ঘড়ি কিনতে হবে।
- রাখি: হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা হলুদের সময় হাতে যে রাখি পরানো হয়, সে রাখি কিনতে হবে। এটা শুধুমাত্র, হিন্দু ধর্মের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
- মেহেদী: মেহেদি দেওয়ার জন্য মেহেদি টিউব কিনতে হবে এবং আপনাকে ২-৩ টি টিউব কিনতে হবে।
- চাটাই ও ডালা: হলুদের ব্যবহার করার জন্য চাটাই ও ডালা কিনতে হবে।
- অলিভোয়েল/মেকআপ রিমুভার
ধর্মীয় পণ্য
বিয়ের সময় অনেক ধরনের ধর্মীয় বিয়ের জিনিসপত্র কিনতে হয়। আপনি যদি মুসলমান হন তাহলে যা কিনবেন,
- জায়নামাজ
- তাসবীহ
- কুরআন শরীফ
- বোরকা ও হিজাব
জুতা
আপনাকে দুই ধরনের জুতা কিনতে হবে। যেমন,
- জুতা: বিয়ের সময় পড়ার জন্য জুতা কিনতে হবে।
- স্যান্ডেল: ঘরে পরার জন্য আপনাকে স্যান্ডেল কিনতে হবে।
বিয়ের জুতা যেখানে পাবেন
- বিয়ের জুতার ক্ষেত্রে প্রথমেই লক্ষণীয় যে জুতা হতে হবে আরামদায়ক। অনেক জুতা আছে যা খুব কষ্ট করে পরতে হয়। বিয়েতে এমন জুতা পরিহার করাই উত্তম। এতে সহজেই পায়ে দাগ পড়ে যেতে পারে
- কনের বিয়ের জুতা পেয়ে যাবেন নিউমার্কেট, কাটাবন, গাউছিয়া, বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, ইস্টার্ন প্লাজা, মিরপুর ১০সহ বিভিন্ন শপিং মলে। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দোকান থেকেও আপনি কিনতে পারবেন। বাজেট হতে হবে ১ হাজার-৫ হাজার টাকা।
বিয়ের লাগেজ
প্রেসিডেন্ট, ডেসি মিলানসহ অসংখ্য ব্র্যান্ডের লাগেজ আছে বাজারে। ব্র্যান্ডেড লাগেজগুলোর দাম ৩ হাজার ৫০০ থেকে। তবে আকারভেদে দাম হতে পারে ১১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত। চাইলে আপনি নন-ব্র্যান্ডেড লাগেজ কিনতে পারেন। সেই ক্ষেত্রে লাগেজের দাম শুরু হবে ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে।
এই সকল জিনিস ছাড়া আরও অনেক বিয়ের জিনিসপত্র আপনার দরকার হতে পারে। উপরের সবগুলো পণ্য বিয়ের সময় প্রয়োজন তা নয়। আপনার প্রয়োজন ও চাহিদার উপর নির্ভর করে বিয়ের জিনিসপত্র বা বিয়ের কসমেটিকস এর কি লাগবে আর কি লাগবে না। তাই, নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী তালিকা তৈরি করে নিন।
- ফ্ল্যাট কেনার আগে যে বিষয় গুলো খেয়াল রাখবেন
- বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় বা সেরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এর তালিকা
বিয়ের কার্ড বা নিমন্ত্রণপত্র
বিয়ের কার্ডের মাধ্যমে ব্যক্তির রুচিবোধ বোঝা যায়। বাংলাবাজার ও পল্টন, কাটাবন, নিউমার্কেটে আছে বিয়ের কার্ডের দোকান। এ ছাড়া আজাদ কিংবা আইডিয়াল প্রোডাক্টসেও ভালো মানের বিয়ের কার্ড আছে।
বিভিন্ন ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান আছে যাদের ইচ্ছে এবং পছন্দমতো ডিজাইনের বিয়ের কার্ড তৈরি করার সুযোগ আছে। দোকান এবং ধরন ভেদে সাধারণ কার্ডের দাম ২০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত হয়। আর মখমলের তৈরি কার্ডের দাম পরে ৭০ টাকা থেকে ।
গায়েহলুদের জিনিসপত্র
বিয়ের গায়েহলুদের সরঞ্জামের তালিকা:
- ডালা-কুলা
- পোশাক
- প্রদীপবাটি
- রাখি
- চন্দন
- সোহাগপুরি
- আফসান
- হলুদ তোয়ালে
- মেহেদি
- ছোট পালকি
- ঝুড়ি
- মাছডালা
- হাঁড়ি
- পানসুপারি
- জর্দা
- মিষ্টি
- বরকনের জন্য কসমেটিক
এই তালিকার উপকরণগুলো গায়েহলুদের আয়োজনকে সুন্দর ও জমকালো করতে সাহায্য করবে। এগুলো কিনে নিজেই ডালা তৈরি করে নিতে পারেন। বা সাজানো ডালার তৈরি সেট কিনে নিতে পারেন।
এ ছাড়া ফুল গায়েহলুদের জরুরী জিনিস। গয়না ও স্টেজ সাজাতে প্রাকৃতিক ফুলের পাশাপাশি এখন কৃত্রিম ফুলও ব্যবহৃত হচ্ছে ।
গায়েহলুদের জিনিসপত্র কোথায় পাবেন কেমন দাম
- এলিফ্যান্ট রোডে পেয়ে যাবেন হলুদের সব উপকরণ। এ ছাড়া যেতে পারেন কাটাবন, নিউমার্কেট, গাউছিয়া, বসুন্ধরা সিটির লেভেল-৮, যমুনা ফিউচার পার্ক, ইস্টার্ন প্লাজা, মিরপুর ১০ সহ বিভিন্ন শপিং মলে।
- শাহবাগ, গাউছিয়া, এলিফ্যান্ট রোড, মিরপুরের ফুলের দোকানে প্রয়োজনীয় ফুল ও গায়েহলুদের জন্য ফুলের গহনার সেটও মিলবে।
- ডালা-কুলা দাম পরবে ১৫০-৬০০, প্রদীপবাটি ১০-৫০ টাকা। এ ছাড়া বিয়ের উপটান-চন্দন, সোহাগপুরির দাম ২০০-৬০০ টাকা। মেহেদি, আলতা ৪০-১৫০ টাকায। ঝুড়ি, পালকি, রুমাল, আফসান দাম পড়বে ১০০-৮০০ টাকা। পানসুপারি, মাছডালা ৩০০-১ হাজার ৫০০ টাকা। তত্ত্বের সেট ৫০০-৩ হাজার টাকা।
ডালা ও অনুষ্ঠানের জিনিস
বিয়ের ডালা, গায়ে হলুদের ডালা, বাটি ও মাথার ব্যান্ড বা মুকুট। এই অংশটা পরিবার ও অঞ্চলভেদে অনেক আলাদা, তাই বড়দের কাছ থেকে জেনে নিন তাঁদের পরিবারে কী কী প্রথা আছে। বিয়ের কাগজপত্র, যেমন কী কী নথি লাগবে, তা কাজী অফিস থেকে আগেই জেনে নিন। আমি এ বিষয়ে আইনি নির্দেশনা দিচ্ছি না।
নিরাপদ কেনাকাটার নিয়ম
আসল পণ্য কিনুন। প্রসাধনী সবচেয়ে বেশি নকল হয়। অনলাইন বা ফুটপাথের খুব সস্তা পণ্য থেকে সাবধান। ব্র্যান্ডের অফিশিয়াল পরিবেশক বা বিশ্বস্ত শোরুম থেকে কিনুন।
মেয়াদ দেখে নিন। প্রতিটি পণ্যে মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ আছে কি না এবং কতদিন আগের উৎপাদন, তা দেখুন। খোলার পর কতদিন ব্যবহার করা যায়, প্যাকেটে সেই চিহ্নও থাকে।
প্যাচ টেস্ট করুন। নতুন যেকোনো ক্রিম, ফাউন্ডেশন বা ফেসপ্যাক কানের পিছনে বা বাহুর ভেতরের দিকে লাগিয়ে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। লালচে ভাব, চুলকানি বা ফোলা হলে ব্যবহার করবেন না।
সংবেদনশীল ত্বকে সতর্ক হোন। আপনার আগে থেকেই অ্যালার্জি, একজিমা বা ব্রণ থাকলে নতুন পণ্য পরীক্ষা করার আগে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলুন।
কারো সঙ্গে মেকআপ ব্রাশ ও আইলাইনার ভাগাভাগি করবেন না। সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।
মেহেদির ক্ষেত্রে কালো রঙের পণ্য এড়ান, আগে বলেছি।
পরিবার ও বরপক্ষের জন্য: কে কী কেনে
অনেক পরিবারে প্রথা আছে যে বরপক্ষ কনের জন্য প্রসাধনী, শাড়ি ও গয়না পাঠায়। এটা সবার ক্ষেত্রে সত্য নয়, আর নানা অঞ্চলে রীতি আলাদা। দুই পক্ষ আগে থেকে খোলাখুলি কথা বলে নিলে পরে মনোমালিন্য কমে। একটি শেয়ার করা তালিকা বানিয়ে কে কী দেবে লিখে রাখলে ভুল বোঝাবুঝি এড়ানো যায়।
কনেকে এমন জিনিস কিনে দেওয়া ভালো যা সে সত্যিই ব্যবহার করবে। সবচেয়ে বড় ভুল হলো কনে যে ব্র্যান্ড ব্যবহার করে না, তা কিনে দেওয়া।
কেনাকাটার তালিকা বানানোর ছক
নিজের জন্য একটা টেবিল বানান:
| আইটেম | কতটা | ব্র্যান্ড বা রং | কে কিনবে | কেনা হয়েছে কি না |
|---|---|---|---|---|
| ফাউন্ডেশন | ১ | নিজের শেড | ||
| লিপস্টিক | ২ | গাঢ় ও হালকা |
ফোনে Google Sheets বা Notes-এ রাখলে পরিবারের সবাই একসঙ্গে দেখতে পারে।
সাধারণ ভুল
অনেকে ইন্টারনেট থেকে ৭০ আইটেমের লিস্ট নামিয়ে সবকিছু কেনেন। প্রতিটি তালিকাই সবার জন্য নয়। নিজের চাহিদা বুঝে বেছে নিন।
আরেকটা ভুল হলো শেষ মুহূর্তে কেনা। এতে ব্র্যান্ড ও মেয়াদ যাচাই করার সময় থাকে না।
তৃতীয় ভুল হলো মেকআপ আর্টিস্টকে না জিজ্ঞেস করে সব কেনা। ফাউন্ডেশন, প্যালেট ও ব্রাশ দুবার কেনা হয়ে যায়।
চতুর্থ ভুল হলো বিয়ের দিনে প্রথমবার নতুন কোনো পণ্য ব্যবহার। অ্যালার্জি হলে সামলানোর সময় থাকে না।
পঞ্চম ভুল হলো আরামের কথা না ভাবা। যে জুতা বা ব্লাউজ ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরা যায় না, তা সুন্দর হলেও কাজের নয়।
ষষ্ঠ ভুল হলো কনের ইমার্জেন্সি কিট ভুলে যাওয়া। পানি, খাবার ও সেফটিপিনের মতো ছোট জিনিসই বিয়ের দিনে সবচেয়ে বেশি কাজে আসে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
বিয়ের কসমেটিকসের তালিকায় সবচেয়ে জরুরি জিনিস কী কী?
ফাউন্ডেশন, কনসিলার, কম্প্যাক্ট পাউডার, লিপস্টিক, কাজল, আইলাইনার, মাশকারা, নেইল পলিশ, ফেসওয়াশ, ময়েশ্চারাইজার ও সানস্ক্রিন। বাকিগুলো নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী।
সব প্রসাধনী নিজেকেই কিনতে হবে কি?
না। মেকআপ আর্টিস্ট নিজের কিট আনলে মুখের মেকআপের জিনিসের বেশিরভাগ আলাদা কেনার দরকার হয় না। তবে দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিস, যেমন ফেসওয়াশ, লোশন ও টাচআপের লিপস্টিক নিজের লাগবে।
কত আগে থেকে কেনাকাটা শুরু করা উচিত?
পোশাক ও গয়না দুই-তিন মাস আগে, প্রসাধনী এক মাস আগে। এতে ব্লাউজ ফিটিং ও পণ্য পরীক্ষার সময় পাবেন।
ত্বকের যত্ন কখন থেকে শুরু করব?
বিয়ের তিন মাস আগে থেকে সহজ ও নিয়মিত রুটিন শুরু করা ভালো। ত্বকের সমস্যা থাকলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যান।
মেহেদি কতদিন আগে দেওয়া ভালো?
সাধারণত বিয়ের আগের দিন বা গায়ে হলুদের আগে দেওয়া হয়, যাতে রং ফোটার সময় পায়। কারিগরের কাছে সময় জেনে নিন।
কালো মেহেদি কি নিরাপদ?
কালো রঙের মেহেদিতে অনেক সময় পিপিডি থাকে, যা তীব্র অ্যালার্জি করতে পারে। প্রাকৃতিক ও পরিচিত উৎসের মেহেদি ব্যবহার করুন এবং আগে ছোট জায়গায় পরীক্ষা করুন।
বিয়ের শাড়ি কয়টি কেনা উচিত?
বিয়ের শাড়ি, বউভাতের শাড়ি ও হলুদের পোশাক সাধারণ। এর বাইরে সুতি শাড়ি ও সালোয়ার কামিজ রোজকার জন্য। সংখ্যা পরিবার ও বাজেটের ওপর নির্ভর করে।
বাজেট কম হলে কী আগে কিনব?
আগে অবশ্যই লাগবে এমন জিনিস: বিয়ের পোশাক, জুতা, ব্যবহৃত প্রসাধনী ও ইমার্জেন্সি কিট। গয়না ও সাজের বাড়তি জিনিস ভাড়া বা ধার করার বিকল্প ভাবুন।
সংক্ষেপে মনে রাখুন
তালিকাটা তিন ভাগে ভাগ করুন: অবশ্যই লাগবে, থাকলে ভালো, আর বাদ দেওয়া যায়। মেকআপ আর্টিস্টকে জিজ্ঞেস করে তবেই মুখের মেকআপ কিনুন। নতুন পণ্য বিয়ের এক মাস আগে ব্যবহার করে দেখুন এবং প্যাচ টেস্ট করুন। কালো মেহেদি এড়ান, আসল পণ্য কিনুন, আর বিয়ের দিনের জন্য একটা ইমার্জেন্সি কিট গুছিয়ে রাখুন।



