
Last updated on March 24th, 2025 at 05:45 am
এটা বেশ আগের কথা, ঐ সময় ফোন বা ইন্টারনেট সুবিধা ছিল না। যাদের অবস্থা ভাল তাদের বাসায় এক বা একাধিক ল্যান্ড ফোন থাকত। আমরা যেখানে থাকতাম সেই এলাকাটা বেশ পুরনো।
অনেকটা বলা যায় গা ছিমছিমে অবস্থা। এই এলাকায় আমরা রয়েছি প্রায় ৩০ বছর ধরে। এই জায়গাটা আমার খুবই পছন্দের। কেন যেন একটা প্রচণ্ড মায়া কাজ করে। আমাদের বাসাটাও বেশ পুরনো। প্রচণ্ড ঝড় উঠলে ভয় লাগে যে কখন ভেঙে পরবে বাতাসের ধাক্কায়। ঝড় শেষ হলে এক সস্তির নিশ্বাস ফেলে বাড়ির সবাই। আমাদের বাসার সামনে একটি নারকেল গাছ রয়েছে। জন্মের পর থেকেই এই গাছটি দেখছি। এই এলাকায় আরও দুটি পুরনো গাছ রয়েছে। একটি হল তেঁতুল গাছ আর একটি হল বট গাছ। এই গাছ দুটি পরম মমতায় আমাদের এই এলাকাটিকে আগলে রেখেছে। আমাদের বাসার ঠিক সামনেই একটি দোতালা বাসা ছিল। বাসাটির নীচতলা এবং দোতালার মালিক ছিল ভিন্ন ভিন্ন। এই বাসার দোতলায় একজন বয়স্ক মহিলা থাকতেন। তার ছেলেমেয়েরা খুব একটা আসতো না এখানে। তিনি তার বেশীর ভাগ সময় বারান্দায় বসে বই পরে কাটিয়ে দিতেন।
তখন শীতকাল চলছিল। শীতের রাতে ঘুম হয় প্রচণ্ড গভীর আর আরামের। আহ চরম আনন্দের। এই সময়ে রাতের বেলা সকলেই ঘুমিয়ে পরে তাড়াতাড়ি। হঠাত প্রচণ্ড বাতাসের শব্দে আমার ঘুম ভাঙে। শীতের রাতে আর যাই হোক ঝড় উঠবার কথা না। আমি ঘুম থেকে কিছু বুঝতে না পেরেই জানালার বাহিরে তাকালাম। দেখলাম যে আমাদের নারিকেল গাছটা বাতাসে প্রচণ্ড বাতাসে যেমন শব্দ করে আর পাতা নরে তেমন নড়ছে। আমি খুব ই অবাক হলাম। কিন্তু আসে পাসের আর কিচুই নরতে দেখলাম। আবার একটু খেয়াল করতেই দেখলাম যে সেই তেঁতুল গাছ আর বট গাছটাও একই ভাবে নড়ছে। অথচ এই তিনটি গাছ ছারা আর সব কিছুই শান্ত হয়ে আছে।
হঠাথ দেখি তিনটে কাঁক কথা থেকে উরে এসে আমাদের সামনের বাড়ির দোতালায় গিয়ে বসল। তারপর তারা সেই তিনটে গাছে গিয়ে বসল এক জন এক জন করে। আমার অবস্থা ততোক্ষণে ভয়ে খারাপ হয়ে গেছে। কি করব বুঝে উঠতে পারছিলাম না। আবার কাওকে যে ডাকতে যাবো সে উপায়ও নেই কারন এদিকের অবস্থা তো আর দেখা হবে না। এরই মদ্ধে দেখলাম সেই বয়স্ক মহিলাটা বারান্দায় এসে দাঁড়িয়েছে। তারপর যা দেখলাম তাতে আমার পুরো শরীর শিউরে উঠেছিল।
মধ্য রাতের অতিথিরা- ভয়ংকর সব গা শিউরে উঠা ভৌতিক গল্প- ৬
ভয়ংকর সব গা শিউরে উঠা ভৌতিক গল্প-ভুতের ছোট গল্প ৫
আজব ট্রেন- ভয়ংকর সব গা শিউরে উঠা ভৌতিক গল্প-ভুতের ছোট গল্প ৪
রহস্যে ঘেরা এক ভূতুড়ে কাহিনী-ভুতের ছোট গল্প ৩
ভয়ংকর সব গা শিউরে উঠা ভৌতিক গল্প-ভুতের ছোট গল্প ২
ভয়ংকর সব গা শিউরে উঠা ভৌতিক গল্প-ভুতের ছোট গল্প ১
দেখি যে কিছু একটা কালো আবরণে ঢাকা ছায়া সেই মহিলাটার সাথে কথা বলছে। আসলে আমার শুধুই জানালার ফাঁকে থেকে দেখা ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না। তাদের কথা চলছিল প্রায় ১ থেকে ২ মিনিট ধরে। তারপর কাঁক তিনটি সেই কালো ছায়ার কাছে গিয়ে বসলো। আর তারা সবাই মিলে ভিতরে চলে গেলো। ততক্ষণে প্রকৃতিও শান্ত। গাছ গুলো আর নড়ছে না। আমার সারাটা রাত ঐ বাড়ির দিকে তাকিয়ে কেটেছিল। সকালে উঠে বারান্দায় গেলাম অথচ দেখলাম যে সবকিছুই আগের মতই আছে কিন্তু ঐ বয়স্ক মহিলাটাকে আর দেখলাম না। কাও কে কিছু বলতে সাহস হচ্ছিল না কেন যেন। এভাবে বেশ কিছুদিন আমার ঐ বাড়ির দিকে তাকিয়েই কেটে। হঠাত একদিন বাহির থেকে এসে দেখি ঐ বাসাটার সামনে প্রচণ্ড ভিড়। আমিও সবার সাথে সাথে ভিড় ঠেলে ঢুকলাম। দেখি যে সেই মহিলাটার মৃতদেহ মেঝেতে পরে রয়েছে। আমি খুবই ভয় পেয়ে যাই। হঠাত চোখ পরে একটি পালকের উপর যা ঠিক মহিলাটার পাশেই পরে রয়েছে। পালকটি ছিল একটি কাকের।
লেখক- সুরাইয়া ইয়াসমিন
ভুতের গল্প, ভুতের বই, ভুতের অডিও, ভুতের কার্টুন, ভুতের সত্য ঘটনা, ভুতের গল্প ডাউনলোড, ভয়ংকর ভুতের গল্প, ভুতের ভিডিও
আরও পরুন
গল্পটি দীপার। ইউনিভার্সিটির জীবন আর ভালোবাসার লুকোচুরির গল্প
ছায়া ও তার বাবা! সম্পর্ক গুলো কেন এত অদ্ভুত??
শূন্যের এক ভয়ংকর রূপ- গল্পের ভান্ডার ১