প্রযুক্তি গাইড

২০,০০০ টাকার মধ্যে সেরা মোবাইল: বাংলাদেশে কোন ফোন কিনবেন?

২০ হাজার টাকার বাজেটে ফোন কেনা এখন আগের চেয়ে কঠিন। তালিকা অনেক, দামের তথ্য একেক দোকানে একেক রকম, আর একটা নতুন ঝুঁকি যোগ হয়েছে: অফিশিয়াল ও আনঅফিশিয়াল ফোনের ফারাক এখন শুধু দামের নয়, ফোন চালু থাকবে কি না তারও।

এই লেখায় আমি একটা নির্দিষ্ট “সেরা ফোন” বলিনি, কারণ ২০ হাজার টাকার ফোনের দাম মাসে মাসে বদলায় এবং সূত্রভেদে ভিন্ন। তার বদলে আপনাকে দিয়েছি কীভাবে বেছে নেবেন, কোন ফোনগুলো তুলনা করবেন, কেনার আগে কী যাচাই করবেন এবং কোন ভুল এড়াবেন। লেখাটা ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক, প্রথমবার স্মার্টফোন কেনা মানুষ, ফেসবুক-ইউটিউব ব্যবহারকারী ও ছোট ফ্রিল্যান্সারদের জন্য।

গ্রামীণফোন ইন্টারনেট প্যাকেজ, অফার কোড, দেখার নিয়ম

দ্রুত উত্তর

আপনার অগ্রাধিকারকী দেখবেনউদাহরণ (যাচাই করে নিন)
সব মিলিয়ে ভারসাম্যAMOLED ডিসপ্লে, ভালো চিপ, 6GB+ RAMRedmi Note 14 5G, Samsung Galaxy A16
সফটওয়্যার আপডেট ও সার্ভিসআপডেট নীতিSamsung Galaxy A07, A16
ব্যাটারি6000 mAh বা বেশিTecno Spark 50, vivo Y19s Pro
সবচেয়ে কম দামের 5GDimensity 6400-জাতীয় চিপTecno Spark 40 5G
বেশি RAM ও দ্রুত চার্জ8GB, 45WInfinix Note 60
গেমিংHelio G99 বা তার ওপরের চিপInfinix Note 60, Samsung A07

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম: অফিশিয়াল ফোন কিনুন, 6GB/128GB-এর নিচে নামবেন না, আর Unisoc চিপের ফোন এড়িয়ে চলুন যদি সাবলীল ব্যবহার চান।

NEIR ও অফিশিয়াল ফোন

এটা সবচেয়ে বড় পরিবর্তন, তাই আগে এটা বুঝে নিন।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (BTRC) জাতীয় যন্ত্র পরিচয় নিবন্ধন (NEIR) ব্যবস্থা চালু করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে নতুন কোনো আনঅফিশিয়াল বা অবৈধভাবে আমদানি করা হ্যান্ডসেট নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত হবে এবং নির্দিষ্ট সময় পর নিবন্ধন না করলে সংযোগ কেটে দেওয়া হবে। BTRC আশ্বাস দিয়েছে যে তখন চালু থাকা কোনো ফোন, অফিশিয়াল বা আনঅফিশিয়াল, বন্ধ করা হবে না। বিদেশ থেকে কেনা বা উপহার পাওয়া ফোনের জন্য NEIR পোর্টালে বিশেষ নিবন্ধন লাগে।

এর মানে বাস্তবে: আনঅফিশিয়াল ফোন সস্তা মনে হলেও নতুন করে কিনলে সেটা ব্লক হওয়ার ঝুঁকি আছে এবং ওয়ারেন্টিও থাকে না। বাংলাদেশে আনঅফিশিয়াল ফোন ঐতিহাসিকভাবে অনেক সস্তা ছিল, কারণ অফিশিয়াল আমদানিতে কর অনেক বেশি। TBS-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে সরকার মোবাইল আমদানি কর ৬১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪৩.৪ শতাংশ করেছে, যদিও ব্যবসায়ীরা এটিকে অপর্যাপ্ত বলেছেন। এই কর কমার কারণে অফিশিয়াল ফোনের দাম কিছুটা কমতে পারে, কিন্তু আজকের দাম আপনি দোকানে গিয়েই জানবেন।

কেনার আগে BTRC-র NEIR পোর্টালে (https://neir.btrc.gov.bd) আপনার ফোনের IMEI যাচাই করুন। BTRC এসএমএসের মাধ্যমে যাচাইয়ের নিয়মও জানিয়েছে, তাই পোর্টালে হালনাগাদ নির্দেশনা দেখে নিন। বক্স খোলার আগে দোকানদারকে বলুন IMEI যাচাই করে দিতে।

আগে বাজেটের বাস্তবতা: ২০ হাজারে কী পাবেন

২০ হাজার টাকায় আপনি ভালো ডিসপ্লে, একটা ঠিকঠাক চিপ ও বড় ব্যাটারি পেতে পারেন, কিন্তু সবকিছু একসঙ্গে নয়। ক্যামেরা, গেমিং পারফরম্যান্স, ডিসপ্লে, চার্জিং ও সফটওয়্যার আপডেট, এর মধ্যে দুই-তিনটাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

একটা সতর্কতা। কিছু আপডেট করা তালিকায় ২০ হাজারের নিচে ৪GB RAM ও ৬৪GB স্টোরেজের ফোনও এসেছে। সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর একটি তুলনামূলক তালিকায় Samsung Galaxy A07-এর 4GB/64GB সংস্করণ প্রায় ৳১৭,১৯৯ দামে দেখা গেছে। এমন সংস্করণ কেনার আগে ভাবুন। ৬৪GB থেকে অ্যাপ, ফটো ও সিস্টেমের জন্য প্রকৃত ফাঁকা জায়গা অনেক কম থাকে, আর ৪GB RAM-এ ফেসবুক, মেসেঞ্জার ও ইউটিউব একসঙ্গে চালালে ফোন আটকাতে পারে।

কীভাবে বেছে নেবেন: স্পেসিফিকেশন ধরে ধরে

প্রসেসর

এটাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ফোন কতদিন ঝরঝরে চলবে তা এর ওপর নির্ভর করে। সাধারণভাবে এই দামের সীমায় Dimensity 7025, Snapdragon 6 Gen 1 ও Dimensity 6400 তুলনামূলক ভালো, Helio G99 মাঝামাঝি, আর Helio G81 ও Unisoc T612, T615, T7250-এর মতো চিপ অপেক্ষাকৃত দুর্বল। এটা সাধারণ ধারণা, নির্দিষ্ট মডেলের বেঞ্চমার্ক নিজে দেখে নিন। Ryans-এর একটি গাইডেও এই দামের সীমায় Helio G99 ও Dimensity 6400-কে সেরা চিপ বলা হয়েছে।

RAM ও স্টোরেজ

ন্যূনতম 6GB RAM ও 128GB স্টোরেজ ধরুন। বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদের জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউব, বিকাশ ও নগদ অ্যাপ একসঙ্গে চলে এবং ভিডিও ও ছবি দ্রুত জমে। 4GB ফোন আজ ঠিকঠাক চললেও এক-দুই বছর পর ধীর হয়ে যেতে পারে।

ডিসপ্লে

AMOLED ডিসপ্লে এই দামে এখন পাওয়া যায়, এবং এটি রঙ ও কালোতে LCD-র চেয়ে ভালো। 90Hz বা 120Hz রিফ্রেশ রেট স্ক্রল করতে মসৃণ লাগে। রোদে বাইরে বেশি ব্যবহার করলে উজ্জ্বলতা (nits) দেখুন।

ব্যাটারি ও চার্জিং

5000 mAh এখন ন্যূনতম। 6000 থেকে 7000 mAh হলে একদিনের বেশি চলার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু চার্জিং গতিও দেখুন। Tecno Spark 50-এর 7000 mAh ব্যাটারি ১৮ ওয়াট চার্জিংয়ে পূর্ণ হতে বেশ সময় নেবে, আর Redmi Note 14 5G-র 5110 mAh ব্যাটারি ৪৫ ওয়াটে অনেক দ্রুত চার্জ হয়। লোডশেডিং বা কম বিদ্যুৎ সংযোগের এলাকায় দ্রুত চার্জিং বেশি কাজের।

ক্যামেরা

এই দামে 50MP বা 108MP সংখ্যা দেখে ভুলবেন না। সংখ্যা বেশি মানেই ছবি ভালো নয়। দিনের আলোয় ছবি মোটামুটি ভালো আসে, কিন্তু কম আলোয় সীমাবদ্ধতা বাড়ে। একটি রিভিউ বলছে Redmi Note 14 5G-র 108MP ক্যামেরা দিনের আলোয় ভালো, কম আলোয় মাঝারি। অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন (OIS) এই দামে বিরল, তাই vivo Y300 Pro-র মতো OIS-সহ ফোন পেলে সেটা প্লাস পয়েন্ট।

সফটওয়্যার আপডেট

এটা অনেকে উপেক্ষা করেন। একটি তুলনায় Samsung Galaxy A16-কে ছয় বছরের আপডেটের জন্য উল্লেখ করা হয়েছে। এটা রিপোর্টের দাবি, তাই Samsung Bangladesh-এর ঘোষণা নিজে মিলিয়ে নিন। দীর্ঘ আপডেট মানে নিরাপত্তা প্যাচ বেশি দিন পাবেন, যা বিকাশ ও ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

৫জি কি দরকার?

বাংলাদেশে ৫জি সীমিতভাবে চালু হয়েছে। Grameenphone ও Robi ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে বাণিজ্যিকভাবে সেবা শুরু করেছে, আর দুটি অপারেটরই বলেছে ৫জি বিদ্যমান ডেটা প্যাকেজেই চলবে, অতিরিক্ত খরচ নেই। ৫জি ব্যবহার করতে হলে ফোনকে অপারেটরের অনুমোদিত হ্যান্ডসেট তালিকায় থাকতে হবে এবং আপনাকে ৫জি এলাকায় থাকতে হবে।

Daily Star-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী তিন প্রধান অপারেটরের নেটওয়ার্কে ৫জি-সক্ষম হ্যান্ডসেটের অংশ ২০২৫ সালের আগস্টের ৫.৭৪ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ৮.২৯ শতাংশে উঠেছে। অর্থাৎ ৫জি এখনো অল্প মানুষের হাতে। Banglalink ও Teletalk সম্পর্কে ঘোষণা ছিল না, Banglalink পরে চাহিদাপূর্ণ এলাকায় চালুর পরিকল্পনার কথা বলেছে।

আমার পরামর্শ: আপনার এলাকায় (বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট বা বিভাগীয় শহরে) GP বা Robi-র ৫জি কভারেজ আছে কি না আগে দেখুন। না থাকলে ৫জির জন্য বাড়তি টাকা না দিয়ে ভালো ডিসপ্লে বা বেশি RAM-এ খরচ করুন। তবে দুই-তিন বছর ফোন রাখতে চাইলে একটা ৫জি-সক্ষম ফোন ভবিষ্যতের জন্য নিরাপদ।

তুলনার জন্য শর্টলিস্ট

নিচের ফোনগুলো বিভিন্ন সূত্রে ২০ হাজারের কাছাকাছি বা নিচে উল্লেখিত। দামগুলো সূত্রভেদে আলাদা এবং কিছু পুরোনো, তাই এগুলোকে আনুমানিক ধরুন।

ফোনচিপ ও ডিসপ্লেব্যাটারিরিপোর্টকৃত দামকার জন্য
Redmi Note 14 5GDimensity 7025, 6.67″ AMOLED 120Hz5110 mAh, 45W৳১৭,৯৯৯ (6/128)সব মিলিয়ে ভারসাম্য
Samsung Galaxy A16Helio G99 (4G), 6.7″ Super AMOLED5000 mAh, 25W৳১৮,৯৯৯ (6/128)ডিসপ্লে ও আপডেট
Samsung Galaxy A07Helio G99, 6.7″ 90Hz5000 mAh, 25W৳১৫,৯৯৯ থেকে ৳১৭,৯৯৯সরল Samsung অভিজ্ঞতা
Tecno Spark 50Helio G81, 6.78″ 120Hz7000 mAh, 18W৳১৮,৯৯৯ থেকে ৳১৯,৯৯৯ব্যাটারি
Tecno Spark 40 5GDimensity 6400, 6.75″ 120Hz6000 mAh, 18Wপ্রায় ৳১৬,৯৯৯ (4/128)সবচেয়ে সস্তা ৫জি
Infinix Note 60Helio G99, 120Hz45Wপ্রায় ৳১৯,৯৯০ (8/128)RAM ও দ্রুত চার্জ
vivo Y300 ProSnapdragon 6 Gen 1, 6.67″ AMOLED 120Hz6500 mAh, 44Wপ্রায় ৳১৮,৯৯৯ (8GB)ডিসপ্লে, OIS ক্যামেরা
vivo Y19s ProUnisoc T612, 6.68″ 90Hz6000 mAh, 44W৳১৬,৯৯৯ থেকে ৳১৮,৯৯৯ব্যাটারি ও চার্জ, দুর্বল চিপ

কয়েকটা মন্তব্য। Redmi Note 14 5G একটি তালিকায় আনঅফিশিয়াল বিভাগেও এসেছে, তাই কেনার আগে অফিশিয়াল সংস্করণ কি না নিশ্চিত হোন। Samsung A16-র 5G ও 4G সংস্করণ আলাদা, তাই বক্সে সংস্করণ মিলিয়ে নিন। Tecno Spark 40 5G ৫জি-র জন্য সস্তা, কিন্তু ৪GB RAM সংস্করণ হলে দীর্ঘদিনের জন্য সীমাবদ্ধ। vivo Y19s Pro-র ব্যাটারি ও চার্জ ভালো, কিন্তু দুর্বল Unisoc চিপের কারণে গেমিং বা ভারী ব্যবহারে ধীর লাগতে পারে। vivo Y300 Pro-র তথ্য একটি দোকানের ব্লগ থেকে নেওয়া, তাই বাংলাদেশে অফিশিয়ালি এই দামে পাওয়া যাচ্ছে কি না নিজে দেখুন।

কিছু তালিকায় Poco, iQOO ও Realme Narzo-র মতো ফোনও দেখা গেছে, যেগুলোর অনেকগুলো আনঅফিশিয়াল চ্যানেলে আসে। NEIR-এর কারণে এগুলোতে বাড়তি ঝুঁকি আছে।

ব্যবহারকারীর ধরন অনুযায়ী পরামর্শ

ছাত্রছাত্রী। অনলাইন ক্লাস, ইউটিউব ও পিডিএফ পড়ার জন্য ভালো ডিসপ্লে, 6GB RAM ও ভালো ব্যাটারি। AMOLED চোখের জন্য আরামদায়ক হতে পারে। Redmi Note 14 5G বা Samsung A16 তুলনা করুন।

ফেসবুক ও ইউটিউব ব্যবহারকারী। বড় ডিসপ্লে, 6GB RAM ও 5000+ mAh। Samsung A07 বা Tecno Spark 50 চলে, যদি 6GB সংস্করণ পান।

গেমার। Free Fire বা PUBG খেললে Helio G99 বা তার ওপরের চিপ ভালো। Infinix Note 60 বা Samsung A07 দেখুন। Unisoc চিপের ফোন এড়ান।

ফ্রিল্যান্সার ও মোবাইল-নির্ভর কাজ। 8GB RAM, ভালো স্টোরেজ ও নিরাপত্তা আপডেট। ক্লায়েন্ট কল ও Google Meet-এ ব্যাটারি টেকে কি না দেখুন। Samsung-এর আপডেট নীতি এখানে সুবিধাজনক।

অভিভাবক ও বয়স্কদের জন্য। বড় ডিসপ্লে, ভালো স্পিকার ও সরল ইন্টারফেস। সার্ভিস সেন্টার সহজে পাওয়া যায় এমন ব্র্যান্ড বাছুন।

যাঁরা ক্যামেরা চান। ২০ হাজারে খুব ভালো ক্যামেরা আশা করবেন না। OIS-সহ ফোন (যেমন vivo Y300 Pro, যদি পান) তুলনামূলক ভালো, কিন্তু নিজে নমুনা ছবি দেখে নিন।

কেনার আগে চেকলিস্ট

দোকানে বা অনলাইনে কেনার আগে এই কাজগুলো করুন।

প্রথমে IMEI যাচাই করুন। বক্সের নম্বর, ফোনের নম্বর ও NEIR পোর্টালের ফল মিলিয়ে দেখুন। তারপর ওয়ারেন্টি কার্ড, সিল ও সিরিয়াল নম্বর দেখুন। অফিশিয়াল ফোনে ব্র্যান্ডের আনুষ্ঠানিক ওয়ারেন্টি থাকে। এরপর চার্জার ও কেবল বক্সে আছে কি না দেখুন, কারণ কিছু ফোনে চার্জার আলাদা। ডিসপ্লে পরীক্ষা করুন: ডেড পিক্সেল, রঙ বদল, টাচ। ক্যামেরা, স্পিকার ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর চালিয়ে দেখুন। শেষে আসল RAM ও স্টোরেজ সেটিংসে মিলিয়ে নিন, বক্সের লেখা আর ফোনের তথ্য এক কি না দেখুন।

কেনার আগে দাম একাধিক জায়গায় তুলনা করুন:

একটি তালিকায় দেখা গেছে ২০ হাজারের নিচে ৬৭টি ফোন পাওয়া যাচ্ছে এবং দাম শুরু ৳১০,৯৯৯ থেকে। একই ফোনের দাম সেলার ভেদে আলাদা, তাই অন্তত দুই-তিনটা জায়গায় দেখুন। অনলাইনে কেনার সময় সেলারের রিভিউ ও রিটার্ন নীতি দেখুন, আর ডেলিভারির সময় বক্স খুলে ফোন যাচাই করুন।

ব্যবহৃত (সেকেন্ড-হ্যান্ড) ফোন কি ভালো বিকল্প?

২০ হাজারে একটা পুরোনো ফ্ল্যাগশিপ, যেমন OnePlus 9R-এর মতো, পাওয়া যেতে পারে, যেমন কিছু বিজ্ঞাপনে দেখা গেছে। ফ্ল্যাগশিপের চিপ ও ডিসপ্লে ভালো হতে পারে, কিন্তু ঝুঁকিও আছে: ব্যাটারি দুর্বল হতে পারে, ওয়ারেন্টি থাকে না, সফটওয়্যার আপডেট শেষ হয়ে থাকতে পারে, আর সবচেয়ে বড় কথা, NEIR-এ ফোনটি বৈধভাবে নিবন্ধিত কি না তা নিশ্চিত করতে হবে। ব্যবহৃত ফোন কিনলে IMEI যাচাই, ব্যাটারি স্বাস্থ্য, ডিসপ্লে পরীক্ষা ও মালিকানার প্রমাণ নিন। চুরি করা বা ক্লোন করা ফোন কেনা আপনার নিজের জন্য আইনি ঝুঁকি।

সাধারণ ভুল

অনেকে শুধু ক্যামেরার মেগাপিক্সেল দেখে ফোন কেনেন। চিপ ও RAM-ই বেশি দিন ফোন ঝরঝরে রাখে।

আরেকটা ভুল হলো আনঅফিশিয়াল ফোন সস্তা বলে কেনা। ওয়ারেন্টি না থাকা, সার্ভিস পাওয়া কঠিন হওয়া ও NEIR-এর ঝুঁকি মিলিয়ে সাশ্রয়টা অনেক সময় মিথ্যা।

তৃতীয় ভুল হলো ৫জি দেখে ৪GB RAM-এর ফোন কেনা। আপনার এলাকায় ৫জি না থাকলে এই বাড়তি টাকা অকারণ।

চতুর্থ ভুল হলো আপডেট নীতি না দেখা। ফোন ২-৩ বছর রাখলে নিরাপত্তা আপডেট গুরুত্বপূর্ণ।

পঞ্চম ভুল হলো দোকানদারের কথায় বিশ্বাস করা, নিজে IMEI ও ওয়ারেন্টি যাচাই না করা। বিশেষ করে “অফিশিয়াল” বলে আনঅফিশিয়াল ফোন বিক্রির ঘটনা ঘটে।

ষষ্ঠ ভুল হলো কিস্তি বা EMI-র মোট খরচ না দেখা। কিস্তিতে কিনলে মোট দাম কত দাঁড়াচ্ছে হিসাব করুন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

২০ হাজার টাকার মধ্যে সেরা ফোন কোনটা?

একটি ফোন সবার জন্য সেরা নয়। ভারসাম্যের জন্য Redmi Note 14 5G বা Samsung A16, ব্যাটারির জন্য Tecno Spark 50, সস্তা ৫জির জন্য Tecno Spark 40 5G, বেশি RAM-এর জন্য Infinix Note 60 তুলনা করুন। দাম ও অফিশিয়াল অবস্থা আগে যাচাই করুন।

অফিশিয়াল ও আনঅফিশিয়াল ফোনের পার্থক্য কী?

অফিশিয়াল ফোন বৈধভাবে আমদানি বা দেশে সংযোজিত, IMEI নিবন্ধিত ও ব্র্যান্ডের ওয়ারেন্টি থাকে। আনঅফিশিয়াল ফোন আনুষ্ঠানিক চ্যানেলের বাইরে আসে, সাধারণত সস্তা কিন্তু ওয়ারেন্টি ও NEIR ঝুঁকি আছে।

NEIR কী এবং আমার ফোন কি বন্ধ হয়ে যাবে?

NEIR হলো BTRC-র ব্যবস্থা, যা মোবাইল হ্যান্ডসেটের IMEI যাচাই করে। BTRC বলেছে তখন চালু থাকা ফোন বন্ধ হবে না, কিন্তু নতুন অনিবন্ধিত ফোন নির্দিষ্ট সময় পর ব্লক হতে পারে। নিয়ম ও সময়সীমা বদলাতে পারে, তাই BTRC-র হালনাগাদ নির্দেশনা দেখুন।

৫জি ফোন কি এখনই দরকার?

দরকার নয়, যদি আপনার এলাকায় ৫জি না থাকে। এখন ৫জি-সক্ষম হ্যান্ডসেটের অংশ সামান্য। তবে দুই-তিন বছর ফোন রাখতে চাইলে ৫জি-সক্ষম ফোন ভবিষ্যতের জন্য নিরাপদ।

4GB RAM কি যথেষ্ট?

প্রাথমিক ব্যবহারে চলে, কিন্তু এক-দুই বছর পর ধীর হতে পারে। 6GB ন্যূনতম ধরুন।

AMOLED নাকি LCD?

AMOLED-এ রঙ ও কালো ভালো এবং সাধারণত ঘন ঘন দেখার জন্য আরামদায়ক। কিন্তু একই দামে চিপ বা ব্যাটারিতে সমঝোতা করতে হলে ভেবে দেখুন।

গেমিংয়ের জন্য কোন ফোন?

Helio G99 বা তার ওপরের চিপ, 6GB+ RAM ও ভালো কুলিং। বাস্তব পারফরম্যান্স নিজে বা বিশ্বস্ত বেঞ্চমার্ক দেখে যাচাই করুন।

কিস্তিতে ফোন কেনা কি ঠিক?

কিস্তিতে মোট খরচ সাধারণত বেশি পড়ে। সুদ বা সার্ভিস চার্জসহ মোট দাম হিসাব করুন।

দাম কি আরও কমবে?

আমদানি কর কমার প্রভাব ও বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। ভবিষ্যৎ দাম সম্পর্কে আমি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারি না।

আইফোন ১২

সংক্ষেপে মনে রাখুন

২০ হাজার টাকার বাজেটে প্রথমে অফিশিয়াল ফোন নিশ্চিত করুন, তারপর চিপ, 6GB RAM ও 128GB স্টোরেজ দেখুন, শেষে ডিসপ্লে, ব্যাটারি ও আপডেট নীতি। ৫জি তখনই দরকার যখন আপনার এলাকায় কভারেজ আছে। কেনার আগে IMEI ও দাম একাধিক জায়গায় যাচাই করুন এবং দোকানদারের কথার ওপর একা ভরসা করবেন না।

Related Articles

Back to top button