Gold Price Calculator (Bangladesh)
জুয়েলারির দোকানে গিয়ে শুনলেন, গলার সেটের দাম তিন লাখের ওপরে। ওজন কত, ক্যারেট কত, মজুরি কত, কিছুই পরিষ্কার নয়, আর আপনি মনে মনে হিসাব মেলাতে পারছেন না। এই ফ্রি গোল্ড প্রাইস ক্যালকুলেটরে সোনার ওজন ও দামের হার দিলে মোট দাম বের করা যায়। সঙ্গে ভরি, আনা, রতি ও গ্রামের মধ্যে রূপান্তরও করা যায়।
লেখাটি তাদের জন্য, যারা গয়না কিনতে, বেচতে বা বদলাতে যাচ্ছেন এবং দোকানির হিসাব বুঝে নিতে চান। এখানে দেখাব সোনার ওজনের একক, ক্যারেটের মানে, দাম হিসাবের সূত্র, বাস্তব উদাহরণ, মজুরির প্রভাব এবং কেনার আগে কী কী দেখে নেবেন।
ফ্রি টুলস ক্যাটাগরি: https://bangla.minciter.com/free-online-tools-bangladesh/
দ্রুত উত্তর: কীভাবে ব্যবহার করবেন
- সোনার ওজন দিন, ভরি, আনা, রতি অথবা গ্রামে।
- ক্যারেট বেছে নিন: ২২, ২১, ১৮ বা সনাতন।
- সেই ক্যারেটের আজকের প্রতি ভরির দাম বসান। এটি বাজুসের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি থেকে নিন।
- মজুরি থাকলে সেটি যোগ করুন।
- মোট দাম দেখুন।
হিসাবের মূল সূত্র একটাই: মোট দাম = ভরির হিসাবে ওজন × প্রতি ভরির দাম, তারপর তাতে মজুরি যোগ।
| বিষয় | মান |
|---|---|
| ১ ভরি | ১১.৬৬৪ গ্রাম |
| ১ ভরি | ১৬ আনা |
| ১ আনা | ৬ রতি |
| ১ ভরি | ৯৬ রতি |
| ১ গ্রাম | প্রায় ০.০৮৫৭ ভরি |
সোনার ওজনের একক: ভরি, আনা, রতি, পয়েন্ট
বাংলাদেশে সোনা মাপা হয় ভরিতে। আন্তর্জাতিক বাজারে অবশ্য গ্রাম বা আউন্স চলে, তাই দুই হিসাব মেলাতে পারলে সুবিধা হয়।
১ ভরি সমান ১১.৬৬৪ গ্রাম। এটি বাজুসের দামের বিজ্ঞপ্তিতেও ব্যবহৃত মাপ। এক ভরির নিচের অংশ আনা, রতি ও পয়েন্টে ভাগ করা হয়। প্রচলিত হিসাবে ১ ভরি ১৬ আনা, ১ আনা ৬ রতি এবং ১ রতি ১০ পয়েন্ট। এই ভাগ দোকানভেদে লেখার ধরনে একটু আলাদা হতে পারে। তাই রসিদে কী লেখা আছে সেটি মিলিয়ে নিন।
গ্রামে প্রতিটি একক এমন দাঁড়ায়:
| একক | গ্রাম |
|---|---|
| ১ ভরি | ১১.৬৬৪ |
| ১ আনা | ০.৭২৯ |
| ১ রতি | ০.১২১৫ |
| ১ পয়েন্ট | ০.০১২১৫ |
গ্রাম থেকে ভরিতে যেতে ১১.৬৬৪ দিয়ে ভাগ করুন। ভরি থেকে গ্রামে যেতে ১১.৬৬৪ দিয়ে গুণ করুন। উদাহরণ: ১৫ গ্রাম ÷ ১১.৬৬৪ = প্রায় ১.২৮৬ ভরি, অর্থাৎ ১ ভরি ৪ আনা ৩ রতির কাছাকাছি।
ক্যারেট বোঝা: ২২, ২১, ১৮ ও সনাতন
ক্যারেট বলে দেয় সোনার খাঁটিত্ব কতটা। ২৪ ক্যারেট মানে প্রায় খাঁটি সোনা। কিন্তু খাঁটি সোনা বেশ নরম, তাই গয়নার জন্য তাতে অন্য ধাতু মেশানো হয়। ২২ ক্যারেট মানে ২৪ ভাগের ২২ ভাগ সোনা, অর্থাৎ প্রায় ৯১.৭ শতাংশ। ২১ ক্যারেটে প্রায় ৮৭.৫ শতাংশ এবং ১৮ ক্যারেটে ৭৫ শতাংশ।
বাজুস সাধারণত ২২ ক্যারেট, ২১ ক্যারেট, ১৮ ক্যারেট এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার আলাদা দাম ঘোষণা করে। ক্যারেট কমলে দামও কমে, কারণ সোনার ভাগ কম। তবে কম ক্যারেটের গয়না সাধারণত শক্ত হয় এবং ডিজাইনে বেশি কাজ করা যায়।
আপনি কোন ক্যারেট কিনছেন, রসিদে সেটি লিখিয়ে নিন। এটি পরে বেচার সময় সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
দামের হিসাব: ধাপে ধাপে উদাহরণ
নিচের উদাহরণে ৯ জুলাই ২০২৬-এ বাজুসের ঘোষিত দাম ধরা হয়েছে। এই দামে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত বলা হয়েছিল। আজকের দাম নিশ্চয়ই আলাদা, তাই সংখ্যাগুলোকে শুধু হিসাবের নমুনা হিসেবে দেখুন।
| ক্যারেট | প্রতি ভরির দাম (টাকা) |
|---|---|
| ২২ ক্যারেট | ২,২১,৯৬৬ |
| ২১ ক্যারেট | ২,১১,৯৯৩ |
| ১৮ ক্যারেট | ১,৮২,০৭৫ |
| সনাতন | ১,৪৮,৭৭৪ |
উদাহরণ ১: সরাসরি ভরিতে। ২.৫ ভরি ২২ ক্যারেটের গয়না।
২.৫ × ২,২১,৯৬৬ = ৫,৫৪,৯১৫ টাকা।
উদাহরণ ২: গ্রামে ওজন। ১৫ গ্রামের ২২ ক্যারেট গয়না।
প্রথমে প্রতি গ্রামের দাম: ২,২১,৯৬৬ ÷ ১১.৬৬৪ ≈ ১৯,০৩০ টাকা।
তাই ১৫ গ্রাম = ১৫ × ১৯,০৩০ ≈ ২,৮৫,৪৫০ টাকা।
উদাহরণ ৩: ভরি, আনা ও রতিতে। ১ ভরি ৮ আনা ৩ রতি।
আনা ও রতিকে ভরিতে আনুন: ৮ আনা = ০.৫ ভরি, ৩ রতি = ৩ ÷ ৯৬ ≈ ০.০৩১২৫ ভরি। মোট ১.৫৩১২৫ ভরি।
২২ ক্যারেটে দাম = ১.৫৩১২৫ × ২,২১,৯৬৬ ≈ ৩,৩৯,৮৮৫ টাকা।
একক ধরে প্রতি অংশের দাম (২২ ক্যারেট, ওই দামে): প্রতি আনা প্রায় ১৩,৮৭৩ টাকা এবং প্রতি রতি প্রায় ২,৩১২ টাকা।
ক্যারেট বদলালে কত তফাত পড়ে
একই এক ভরিতে ক্যারেট বদলালে দামে বড় ফারাক আসে। ওই তারিখের দামে:
| তুলনা | প্রতি ভরিতে তফাত |
|---|---|
| ২২ ক্যারেট ও ২১ ক্যারেট | ৯,৯৭৩ টাকা |
| ২২ ক্যারেট ও ১৮ ক্যারেট | ৩৯,৮৯১ টাকা |
তাই দোকানি ক্যারেট ঠিক বললেন কি না, একটু মন দিয়ে দেখুন। ২২ ক্যারেটের দামে ২১ ক্যারেটের গয়না কিনলে প্রতি ভরিতে কয়েক হাজার টাকা বাড়তি যায়।
মজুরি ও অন্যান্য খরচ
গয়নার দাম শুধু সোনার দামে শেষ হয় না। ওপরে মজুরি যোগ হয়। বাজুসের ওই বিজ্ঞপ্তিতে দামে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত ছিল, তাই আলাদা ভ্যাট চাওয়ার কথা নয়। কিন্তু মজুরির কোনো নির্দিষ্ট হার ছিল না। সংবাদে বলা হয়েছিল, এটি গয়নার নকশার ওপর নির্ভর করে।
মজুরি দোকানভেদে আলাদা হয়, কেউ ভরিপ্রতি টাকার অঙ্কে ধরে, কেউ শতাংশে। কিছু দোকানে পাথর বা বিশেষ কাজের দাম আলাদা ধরা হয়। এসব নিয়ম সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে, তাই কেনার আগে দোকান থেকে স্পষ্ট জেনে নিন।
নমুনা হিসাবের জন্য ধরুন, উদাহরণ ৩-এর গয়নার মজুরি ১০ শতাংশ। এটি একটি কাল্পনিক হার, কোনো দোকানের হার নয়। সোনার দাম ৩,৩৯,৮৮৫ টাকার ১০ শতাংশ প্রায় ৩৩,৯৮৯ টাকা। মোট দাঁড়ায় ৩,৭৩,৮৭৪ টাকা। অর্থাৎ মজুরি আলাদা না জেনে কিনলে বিলে ৩০ হাজার টাকার বেশি চমক আসতে পারে।
পাথরযুক্ত গয়নার ক্ষেত্রে ওজনের হিসাব নিয়ে আলাদা প্রশ্ন থাকে। মোট ওজনে পাথরের ওজনও ধরা আছে কি না, সোনার ওজন আলাদা লেখা আছে কি না, এটি রসিদে স্পষ্ট করিয়ে নিন।
কেনার আগে ও পরে কী কী করবেন
সেদিনের দাম জেনে যান। বাজুস প্রয়োজনে দিনে একাধিকবার দাম বদলায়। কেনার দিনের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।
রসিদ চান এবং খুঁটিয়ে দেখুন। রসিদে ওজন, ক্যারেট, সোনার দাম, মজুরি ও মোট দাম আলাদা আলাদা লেখা আছে কি না দেখুন।
ওজন নিজের সামনে মাপান। দাঁড়িপাল্লা বা ডিজিটাল স্কেলে ওজন আপনার সামনে হচ্ছে কি না খেয়াল রাখুন।
টুলে আগে হিসাব করে যান। আপনি যে হিসাব করেছেন, দোকানির হিসাব মিলিয়ে দেখুন। অমিল পেলে ভদ্রভাবে প্রশ্ন করুন।
একাধিক দোকানে মজুরি তুলনা করুন। সোনার দাম একই দিনে প্রায় সমান থাকে, কিন্তু মজুরি ও পাথরের দামে বড় ফারাক হতে পারে।
পরে বেচার কথাও ভাবুন। পুরনো গয়না বেচার সময় দোকান সাধারণত মজুরি বা অন্য কিছু কেটে নেয়। কতটা কাটে, তা দোকানভেদে আলাদা। কেনার সময়ই জেনে নিন, পরে ফেরত দিলে বা বদলালে নিয়ম কী।
কার জন্য সবচেয়ে উপযোগী
বিয়ের গয়না কিনতে যাওয়া পরিবার, যারা একসঙ্গে অনেক ওজনের হিসাব মেলাতে চান।
যারা পুরনো গয়না বেচতে বা নতুনের সঙ্গে বদলাতে যাচ্ছেন এবং আনুমানিক মূল্য আগে জেনে যেতে চান।
বিনিয়োগ হিসেবে সোনা কেনার কথা ভাবছেন যারা, তারা দামের ওঠানামা ও কেনার খরচ মেলাতে পারেন। সোনা কিনলেই লাভ হবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। দাম নামতেও পারে, আর গয়না কিনলে মজুরি বাদ যায়।
প্রবাস থেকে সোনা আনা বা কেনা মানুষ, যারা গ্রাম, আউন্স ও ভরির হিসাব মেলাতে চান।
টুলের সীমা
| ক্ষমতা | সীমাবদ্ধতা |
|---|---|
| ফ্রি, সাইন-আপ লাগে না | দামের হার আপনাকে নিজে দিতে হয় বা আপডেট করে নিতে হয় |
| ভরি, আনা, রতি ও গ্রামের হিসাব সহজ হয় | দোকানের মজুরি ও পাথরের দাম টুল জানে না |
| ক্যারেট অনুযায়ী তুলনা করা যায় | দোকানের চূড়ান্ত বিল সবসময় এক হবে না |
| কেনার আগে আনুমানিক দাম ধরা যায় | পুরনো গয়না বেচার দাম এটি বলতে পারে না |
টুলের হিসাব আনুমানিক। চূড়ান্ত দাম হবে দোকানের মাপা ওজন, ঘোষিত ক্যারেট ও মজুরির ওপর। কেনাবেচার সিদ্ধান্ত বা বিনিয়োগের সিদ্ধান্তে এটি আর্থিক পরামর্শ নয়।
আরও কাজের লিঙ্ক
- বাংলাদেশের আরও ফ্রি অনলাইন টুল: https://bangla.minciter.com/free-online-tools-bangladesh/
- বাজুসের অফিসিয়াল সাইট: https://www.bajus.org/
প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
১ ভরি সোনা কত গ্রাম?
১১.৬৬৪ গ্রাম।
১ ভরিতে কত আনা ও রতি?
প্রচলিত হিসাবে ১ ভরিতে ১৬ আনা এবং ১ আনায় ৬ রতি। অর্থাৎ ১ ভরি ৯৬ রতি। রসিদে দোকান কীভাবে লিখেছে, সেটি মিলিয়ে নিন।
২২ ক্যারেট আর ২১ ক্যারেটের তফাত কী?
২২ ক্যারেটে ২৪ ভাগের ২২ ভাগ সোনা, ২১ ক্যারেটে ২১ ভাগ। তাই ২২ ক্যারেট বেশি খাঁটি ও দামে বেশি। ৯ জুলাই ২০২৬-এর দামে প্রতি ভরিতে ফারাক ছিল ৯,৯৭৩ টাকা।
সোনার দাম কে ঠিক করে?
বাংলাদেশে বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি (বাজুস) দাম ঘোষণা করে। আন্তর্জাতিক দাম ও বাজারের অবস্থা অনুযায়ী তা বদলায়।
গ্রামে দাম কীভাবে বের করব?
প্রতি ভরির দামকে ১১.৬৬৪ দিয়ে ভাগ করলে প্রতি গ্রামের দাম পাবেন। তারপর গ্রামের ওজন দিয়ে গুণ করুন।
গয়নার দামে কি ভ্যাট আলাদা লাগে?
৯ জুলাই ২০২৬-এর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল ঘোষিত দামে ভ্যাট ধরা আছে। নিয়ম বদলাতে পারে, তাই কেনার সময় রসিদে দেখে নিন।
মজুরি কত হওয়া উচিত?
কোনো নির্দিষ্ট হার নেই। এটি গয়নার নকশা ও দোকানের ওপর নির্ভর করে। কয়েকটি দোকানে জিজ্ঞেস করে তুলনা করুন।
টুলে দাম নিজে বসাতে হবে কেন?
সোনার দাম প্রায়ই বদলায়। সর্বশেষ বাজুস বিজ্ঞপ্তির দাম বসালে হিসাব সবচেয়ে কাছাকাছি আসে। আপনার টুল দাম নিজে আনে কি না, সেটি যাচাই করে এখানে সঠিক তথ্য বসান।
ফোনে কি ব্যবহার করা যায়?
প্রকাশের আগে নিজের ফোনে একবার পরীক্ষা করে নিন, তারপর পাঠকদের নিশ্চিত করে জানান।
সংক্ষেপে
ওজনকে ভরিতে আনুন, ক্যারেট অনুযায়ী সর্বশেষ বাজুস দাম দিয়ে গুণ করুন, তারপর মজুরি যোগ করুন। মনে রাখুন, ১ ভরি ১১.৬৬৪ গ্রাম আর ক্যারেট বদলালে প্রতি ভরিতে হাজার হাজার টাকা ফারাক হয়। রসিদে ওজন, ক্যারেট ও মজুরি আলাদা আলাদা লিখিয়ে নিন এবং কেনার আগে একাধিক দোকানে মজুরি তুলনা করুন।



